‘কালো একটা নোহা গাড়ি আমাকে নিয়ে যাচ্ছে’ স্ট্যাটাসের পর নিখোঁজ যুবক
মোহাম্মদ আনসার উদ্দিন
পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ১৮:১৮
‘কালো একটা নোহা গাড়ি আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। মোবাইল নিয়ে ফেলতেছে। আমাকে একটু বাঁচান।’- নিজের ফেসবুক আইডিতে এমন স্ট্যাটাস দেওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আনসার উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসের পর থেকেই তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের মাঝেরঘোনা এলাকার বাসিন্দা আনসার উদ্দিন বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে চকরিয়ার শেভরন হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসপাতালের কাজ শেষে তিনি স্ত্রীকে ফোন করে জানান, আরও ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে তিনি রওনা হবেন।
কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তারা বিভিন্ন নম্বরে ফোন করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পান। পরে রাত ৩টার দিকে আনসার উদ্দিনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসটি দেখতে পান স্বজনরা। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় আনসার উদ্দিনের স্ত্রী আঁখি মণি পেকুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
আঁখি মণি বলেন, ‘সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওনার সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। এরপর থেকে ওনার ফোন বন্ধ। ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারলাম, ওনি অপহৃত হয়েছেন। আমার চারটা ছোট ছোট মাসুম বাচ্চা। বাবাকে না দেখে তারা এক মুহূর্তও থাকতে পারে না। কাল থেকে তারা খেতে ও ঘুমাতে চায় না, সারাক্ষণ কান্না করছে। আমি সবার কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, আমার সন্তানদের দিকে তাকিয়ে হলেও ওনাকে ফিরিয়ে দিন।’
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, আনসার উদ্দিন চকরিয়া এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ায় প্রথমে তার পরিবারকে চকরিয়া থানায় জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে তার স্ত্রী সেখানে জিডি গ্রহণ করা হয়নি বলে জানালে পেকুয়া থানায় একটি জিডি নেওয়া হয়।
ওসি বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আমাদের একটি দল বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’