ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

এনবিআর সার্ভারে অনুপ্রবেশ: নেপালে পালানোর সময় জালিয়াত চক্রের সদস্য বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার

এনবিআর সার্ভারে অনুপ্রবেশ: নেপালে পালানোর সময় জালিয়াত চক্রের সদস্য বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার
×

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ০৪:২৮

কাগজপত্র জালিয়াতিসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সার্ভারে ঢুকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চালান খালাসের চেষ্টাকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শেখ সেজান নামে এই জালিয়াতকারী ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ ও ৫০ লাখ সিগারেট চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাসের চেষ্টা চালিয়ে ধরা পড়ে যান। গত বুধবার নেপালে পালিয়ে যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।

শেখ সেজান বড় ধরনের জালিয়াতকারী চক্রের অন্যতম সদস্য। সরকারি বিভিন্ন জনসেবামূলক ওয়েবসাইট ক্লোনিং, জাতীয় পরিচয়পত্র, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, জন্মনিবন্ধন, টিকা সনদসহ বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল সেবা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। মূলত তিনি ও তাঁর চক্রের সদস্যরা সরকারি ওয়েবসাইটের অনুরূপ প্ল্যাটফর্ম তৈরি, নাগরিক তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থেকে প্রতারণামূলকভাবে সহজ-সরল লোকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে করে আসছিলেন। আগেও এই ধরনের অভিযোগে সিএমপি সিটি ও ঢাকা মেট্রোপালিটন পুলিশ (ডিএমপি) সিটিটিসি টিম তাঁকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করে।

সিএমপি জানায়, একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র চীন থেকে বন্ডের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় ফেব্রিক্স আমদানির মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে উচ্চ শুল্কের অন্তত ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ আমদানি করে। ১০-১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এই চালান খালাস করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশ আন্তর্জাতিক চোরাচালানের চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এ ঘটনায় সিএমপির বন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তকালে শেখ সেজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সাইবার ক্রাইম ও প্রতারণা-সংক্রান্ত সাতটি মামলা রয়েছে। সেজানের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।

সিএমপির বন্দর থানার কাস্টমস-সংক্রান্ত মামলা দুটির বিপরীতে এখন পর্যন্ত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান খালেদ হোসেন মামুন, পরিচালক বাকির হোসেন, কর্মচারী খোরশেদ আলম রিপন ও মিজান এবং চক্রের সদস্য আশরাফ হোসেন রাজু, খায়েজ আহমেদ আরিফ ও বড় রাজু নামে সাতজনকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল।

ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, তদন্তে পাওয়া ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ২০ মে একটি মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে কাস্টমসের এক কর্মকর্তার ব্যবহারকারী পরিচিতিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে। পরে একই পরিচিতি ব্যবহার করে বিদেশি সিগারেট আমদানির ঋণপত্র নিবন্ধন ও চালুর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

আরও পড়ুন

×