খানমান শাকে বাঁচার যুদ্ধ
ঈশ্বরদী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে গতকাল শুক্রবার সকালে খানমান শাকের আঁটি বাঁধায় ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় দুই বিক্রেতা সমকাল
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
গ্রামের ঝোপঝাড় কিংবা পথের ধারে অনাদরে বেড়ে ওঠা আগাছা ঘেরকচু বা খানমান। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি পুরোপুরি ফেলনা হলেও, এই আগাছা সংগ্রহ করেই জীবিকার সন্ধান পেয়েছেন কিছু সংগ্রামী মানুষ।
দিনভর রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঈশ্বরদীর পথ-প্রান্তর থেকে খানমান সংগ্রহ করে তারা সচল রাখছেন সংসারের চাকা। ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে গেলেই চোখে পড়ে এই সংগ্রামী মানুষের খানমানের শাক আঁটি বাঁধার ব্যস্ততা।
ঘেরকচু, খানমান বা ঘেটওল মূলত এক ধরনের কচুজাতীয় উদ্ভিদ। ফসলের জমি বা বাড়ির আঙিনায় আগাছা হিসেবে বেড়ে ওঠা এই উদ্ভিদ সাধারণত কৃষকেরা কেটে বা বিষ দিয়ে ফেলে দেন। পাবনা বা ঈশ্বরদী অঞ্চলের মানুষের খাদ্যতালিকায় এর কোনো স্থান না থাকলেও, যশোরের মানুষের কাছে এই খানমান শাক-সবজি হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। কয়েক বছর ধরে রাজধানী ঢাকায় এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এই সুযোগটিকেই বেঁচে থাকার উপায় করে নিয়েছেন নাটোর ও সিরাজগঞ্জ থেকে আসা কিছু প্রান্তিক মানুষ।
গত রোববার দুপুরে ঈশ্বরদী শহরের পথে দেখা গেল এক নীরব লড়াইয়ের দৃশ্য। নাটোর থেকে আসা মধ্যবয়সী রহমত আলী মাথায় খানমানের মস্ত বোঝা নিয়ে রেলস্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে গিয়ে দেখা গেল, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ নীরব দুপুরে বসে পরম যতনে খানমান বেছে বেছে ছোট ছোট আঁটি বাঁধছেন।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে তৈরি করা এই আঁটিগুলো তারা ট্রেনে চেপে নিয়ে যান যশোরের হাট-বাজারে। সেখানে প্রতি আঁটি মাত্র ৫-৬ টাকা দরে বিক্রি হয়। দিনশেষে যা আয় হয়, তা দিয়ে চাল, ডাল, তেল কিনে বাড়ি ফেরেন তারা। এই ফেলনা পাতার ওপর ভর করেই প্রতিদিন জ্বলে তাদের ঘরের চুলো।
ঈশ্বরদী স্টেশনে সিরাজগঞ্জের আব্দুল আজিজ জানান, ১১ বছর ধরে ঈশ্বরদী, আব্দুলপুর, ভেড়ামারা প্রভৃতি এলাকার ঝোপঝাড় থেকে খানমান সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। প্ল্যাটফর্মে বসে আঁটি বাঁধেন। তারপর যশোরের বাজারে নিয়ে বিক্রি করে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। নাটোরের রহমত আলী জানান, তাঁর কষ্টের কথা। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালের ৩-৪ মাস এই উদ্ভিদ বেশি পাওয়া যায়, বছরের অন্য সময় থাকে ঘাটতি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গ্রামের ঝোপঝাড় এখন অনেক কমে গেছে তাদের এই বেঁচে থাকার পুঁজি।
- বিষয় :
- জীবন-সংগ্রাম