সময়ের সঙ্গে বাড়ছে খরচ শেষ হচ্ছে না সেতুর কাজ
কুমিল্লার তিতাসে গোমতী নদীর ওপরে সেতুর নির্মাণকাজে ধীরগতির কারণে দুর্ভোগ। গতকাল শনিবার তোলা- সমকাল
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৬ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লার তিতাসে আসমানিয়া বাজারসংলগ্ন গোমতী নদীর ওপর একটি সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। দেড় বছরে সেতুটির কাজ শেষ করার কথা ছিল। ইতোমধ্যে চলে গেছে তিন বছর, কিন্তু সেতুর
কাজ শেষ হয়নি। বরাদ্দ বেড়ে গেছে এক কোটি ৩৬ লাখ টাকা। তিন দফা সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ না হওয়ায় আবারও সময় বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
কেবল দীর্ঘসূত্রিতা নয়, সেতুটির নির্মাণকাজেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিনেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গোমতী নদীর দুই পারের অন্তত ২৪ গ্রামের মানুষ। তাদের মধ্যে রয়েছেন তিতাস উপজেলার ৫টি, মুরাদনগরের ১টি ও দাউদকান্দির ২টি ইউনিয়নের বাসিন্দা। বিশেষ করে আসমানিয়া বাজারের ব্যবসায়ী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এই এলাকার মানুষ বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে ও নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছেন। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনে, বিশেষ করে কেউ অসুস্থ হলে বিপাকে পড়ছেন। সেতুটির ধীরগতির কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর বাসস্টেশন থেকে তিতাসের বাতাকান্দি বাজার পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এই সড়কের আসমানিয়া বাজার সংলগ্ন গোমতী নদীর ওপর আগে একটি বেইলিব্রিজ ছিল। সেটি অপসারণ করে ১০ কোটি ৭৭ লাখ ২৪ হাজার ৬৯৯ টাকা ব্যয়ে ৭৫ মিটার একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট শুরু হয়েছে নির্মাণকাজ, যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। এই সময়ে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম দফায় ওই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। ওই সময়েও কাজ শেষ না হওয়া তৃতীয় দফায় চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কাজটি সম্পন্ন না হওয়ায় আরও সময় বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএবিএনএমই।
প্রথম পর্যায়ে সেতু নির্মাণের প্রাক্কলিত মূল্য ৯ কোটি ৮০ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৭ টাকা থাকলেও চুক্তি মূল্য হয় ১০ কোটি ৭৭ লাখ ২৪ হাজার ৬৯৯ টাকা। ২০২৬ সালের মে মাসে এক কোটি ৩৬ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২ টাকা বাড়িয়ে সংশোধিত মূল্য দাঁড়ায় ১২ কোটি ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৯৪১ টাকা। যার মধ্যে সংশোধিত চুক্তিতে ২৮০ মিটার সংযোগ সড়ক ও ২৪০ মিটার প্রতিরক্ষা দেয়াল রয়েছে।
এদিকে নির্মাণ ব্যয় সংশোধনের মাধ্যমে অতিরিক্ত এক কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও নির্মাণকাজের মান ও অগ্রগতি নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, সংযোগ সড়ক ও প্রতিরক্ষা দেয়ালটি নকশা অনুযায়ী সোজা হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদার ইচ্ছেমতো একাধিক বিপজ্জনক বাঁক তৈরি করেছেন। এলাকাবাসীর এমন অভিযোগে সংযোগ সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ধরা পড়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ একপর্যায়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। পরে নকশা অনুযায়ী সংশোধনের নির্দেশ দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়।
আসমানিয়া বাজারের আলমগীর হোসেন জানান, যে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে ১২ কোটি টাকা ব্যয় করে এর প্রকৃত সুবিধা পাবে না এলাকার মানুষ। এটি মরণফাঁদে পরিণত হবে, কারণ সংযোগ সড়ক আঁকাবাঁকা করা হয়েছে।
এসএবিএনএমই-এর সাইট ইঞ্জিনিয়ার আসাদুল ইসলাম জানান, গত জুন মাসে কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবেন বলে আশা তাঁর। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনের কারণে সংযোগ সড়ক করতে সমস্যা হচ্ছে। নকশা অনুযায়ী কাজ করছি। তবে শ্রমিকরা বেইজ ঢালাইয়ের সময় রড বাঁধাইয়ে ভুল করায় সংশোধন করা হয়েছে।’
এলজিইডির তিতাস উপজেলা প্রকৌশলী খোয়াজুর রহমানের ভাষ্য, সেতুর ৭৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, বাকি কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।
- বিষয় :
- সেতু