১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী
নুহাশপল্লীতে নানা আয়োজনে হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ
কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে গতকাল রোববার গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে তাঁর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, দুই সন্তান ও ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন। ছবি: সমকাল
গাজীপুর ও কেন্দুয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৬
প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরের নুহাশপল্লী ও নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় নানা আয়োজনে তাঁকে স্মরণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার নুহাশপল্লীতে কোরআনখানি, মিলাদ, দোয়া, এতিম শিশুদের আপ্যায়ন ও ভক্তদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। অন্যদিকে তাঁর পৈতৃক ভিটা নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় শোক র্যালি, দোয়া, বৃক্ষরোপণ, কুইজ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
সকালে নুহাশপল্লীতে কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিলের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে সঙ্গে নিয়ে লেখকের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে তারা লেখকের আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করেন।
নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও আশপাশের ৫-৬টি এতিমখানার শিশুদের আমন্ত্রণ জানিয়ে কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। প্রয়াণ দিবসে নুহাশপল্লীতে এসেছিলেন অন্যপ্রকাশের কর্ণধার মাজহারুল ইসলাম।
রাষ্ট্রের কাছে কোনো চাওয়া নেই: শাওন
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘১৪ বছর ধরে শুধু আমরা নুহাশপল্লীর কর্মীরা মিলেই হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন ও মৃত্যুদিন নিয়মিত পালন করছি। এর বাইরে তাঁর জন্ম-মৃত্যু দিন পালনে রাষ্ট্র ও সরকারের কাছে আমার কিছু চাওয়া নেই। এক সময় আশা ছিল, কিন্তু এখন কোনো চাওয়া বা আশাও নেই।’
নুহাশপল্লীতে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত লাইব্রেরি করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগে কয়েকবার উন্মুক্ত লাইব্রেরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু অনেকে বই নিয়ে আর ফেরত দেয় না।তাই তাঁর বইয়ের সংগ্রহ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা আপাতত নেই।’
এদিকে, নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে হুমায়ূন আহমেদের নিজ হাতে গড়া ‘কুতুবপুর শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ’-এ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল ৭টায় পবিত্র কোরআন খতমের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর কালো ব্যাজ ধারণ, শোক র্যালি, লেখকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল, বৃক্ষরোপণ, কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং দেয়ালিকা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
- বিষয় :
- হুমায়ূন আহমেদ
- মৃত্যুবার্ষিকী