ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম তিনগুণ

এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম তিনগুণ
×

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১১ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪০

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজবাড়ীতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে এখন ৬০ টাকার নিচে সবজি খুঁজে পাওয়া কঠিন। মাছের দামও ধরাছোঁয়ার বাইরে। চাষের পাঙাশ, রুই, কাতলা, সিলভার কার্পসহ প্রায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। ফলে বিপদে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। 

সোমবার রাজবাড়ী শহরের প্রধান কাঁচাবাজার ও মাছবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কয়েকদিন আগেও ঢ্যাঁড়শ ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হতো। সেই ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। একইভাবে মিষ্টিকুমড়ার দাম ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা কেজি। কচুরমুখী ৫০ থেকে বেড়ে ৭০ টাকা, উস্তা ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কাকরোল ৩০ থেকে বেড়ে ৭০ টাকা কেজি হয়েছে। ধুন্দল ২০ থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৩০ থেকে বেড়ে ৭০ টাকা এবং পটোল ২৫ থেকে বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাঝারি আকারের একটি লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন কিনতে হচ্ছে ৭০ টাকায়। বাজারে তুলনামূলক কম দামের সবজি হিসেবে শুধু পেঁপেই পাওয়া যাচ্ছে, যার দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি দরে; যা এক সপ্তাহ আগে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় তিন হাজার টাকা কেজি দরে। আর ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৪শ টাকা কেজি দরে। এছাড়া পাঙাশ, রুই, কাতলা, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫শ থেকে ৬শ টাকা। যা ক’দিন আগে ছিল চারশ টাকার মধ্যে। ফলে মাছও এখন অনেক পরিবারের জন্য বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।
বাজার করতে আসা সাইদুল ইসলাম জানান, নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে বাজার করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অনেক সময় প্রয়োজনের সবজি না কিনে কম দামের যা পাওয়া যায়, তাই নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। 

রাজ্জাক মণ্ডল নামে একজন আক্ষেপ করে বলেন, ইলিশ এখন গরিব মানুষের স্বপ্নের মাছ হয়ে গেছে। চাষের মাছের দামও দিন দিন বাড়ছে। আগে সপ্তাহে এক-দুদিন মাছ কিনতাম, এখন সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। সংসারের আয় বাড়েনি, কিন্তু প্রতিদিনই বাজারের খরচ বাড়ছে। সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা কেউ ভাবছে না। 

সবজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে অনেক কৃষকের জমিতে পানি জমে গেছে। ফলে সবজি নষ্ট হয়েছে এবং আড়তে পর্যাপ্ত পণ্য আসছে না। এখন বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। এ কারণেই প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। এটি প্রতিবছর বর্ষাকালে কিছুটা হয়। তবে এবার বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও বেশি খারাপ হয়েছে। 

সবজি বিক্রেতা রাজু মণ্ডল জানান, তারা ইচ্ছা করে দাম বাড়ান না। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজির সরবরাহ অনেক কমে গেছে। আড়ত থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। 

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে সাধারণত দেশে বৃষ্টিপাত বেশি হয়। এ সময় অনেক কৃষক সবজি চাষ কম করেন। আবার যেসব জমিতে সবজি আবাদ করা হয়, অতিবৃষ্টির কারণে সেখানে গাছ মারা যায় বা ফলন নষ্ট হয়। ফলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বাজারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে যায়। এটি মৌসুমি একটি পরিস্থিতি। 

রাজবাড়ী জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নাঈম আহম্মেদ বলেন, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজবাড়ীসহ সারাদেশেই সবজির দাম বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে, তখন দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে বলে মনে করেন তিনি। 

আরও পড়ুন

×