ছয় মাসেই বেহাল এলজিইডির নতুন সড়ক, বাড়ছে দুর্ভোগ
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৭ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫২
| প্রিন্ট সংস্করণ
উলিপুর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নতুন নির্মিত ও সংস্কার করা অনেক পাকা সড়ক ছয় মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়ছে। নীতিমালা অনুযায়ী এসব সড়ক অন্তত তিন বছর টেকসই থাকার কথা। ফলে প্রতিবছর একই সড়ক বারবার সংস্কারে অর্থ ব্যয় হলেও নতুন সড়ক নির্মাণে গতি আসছে না। এতে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের বদলে বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দশকে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে উপজেলায় প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সড়ক পাকা করা হয়েছে। পাকা সড়কের হার মাত্র ১৫ শতাংশ। এখনও প্রায় দুই হাজার ৪২৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, মূল ঠিকাদারের পরিবর্তে একাধিক ধাপে কাজ হাতবদল, অদক্ষ ঠিকাদার নিয়োগ, কম বরাদ্দে বেশি কাজের নীতি এবং তদারকির দুর্বলতার কারণে সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচপীর বাজার-যমুনা বাজার সড়ক সংস্কার করা হয়। কিন্তু তিন মাসের মধ্যেই সড়কটিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। একই সময়ে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে উলিপুর পৌরসীমা থেকে থেতরাই বাজার পর্যন্ত সড়ক সংস্কার করা হলেও ছয় মাসের মধ্যে সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, এক বছর পর্যন্ত ঠিকাদারের জামানত সংরক্ষিত থাকার কথা এবং এ সময়ের মধ্যে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা জামানতের অর্থে মেরামত করার বিধান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে এ নিয়ম কার্যকর হয় না।
ভ্যানচালক মোজাফ্ফর রহমান জানান, কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ভেঙে যায়। এতে তাদের জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে।
পাঁচপীর বাজারের ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল বলেন, সংস্কারের ১৫ দিনের মধ্যেই সড়কে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনা বাড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাঁদা তুলে সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট করেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাত থেকে পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার, ১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ এবং পৃথক একটি প্রকল্পে তিন কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ কাজ শেষ হয়নি।
দুর্গাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার আবেদ আলী বলেন, কাজ একাধিকবার হাতবদল হওয়ায় এবং নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের কারণে সড়ক টেকসই হচ্ছে না।
একটি সড়ক প্রকল্পের সাব-ঠিকাদার ইমতিয়াজ মো. শামীউল ইসলাম বলেন, বরাদ্দের তুলনায় বাস্তবে বেশি উপকরণ ব্যবহার করতে হয়। আবার মাত্র ২৫ মিলিমিটার কার্পেটিং দিয়ে ভারী যানবাহনের চাপ সামলানো সম্ভব নয়।
উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আল মাহমুদুন্নবী সরকার বলেন, কম টাকায় বেশি কাজের নীতি, সর্বনিম্ন দর পদ্ধতি এবং মূল ঠিকাদারের পরিবর্তে অন্যের মাধ্যমে কাজ করানোর প্রবণতা বন্ধ করে বরাদ্দ বাড়ানো গেলে টেকসই সড়ক নির্মাণ সম্ভব।
উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বলেন, বর্তমান বরাদ্দে ভারী যানবাহন চলাচল উপযোগী মানসম্পন্ন সড়ক নির্মাণ কঠিন। তবে নীতিমালার পরিবর্তন এবং বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে কাজের মান নিশ্চিত করা সহজ হবে।
- বিষয় :
- সড়ক