ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

জিল বাংলা চিনিকল

বাজারে চাহিদা থাকলেও বিক্রি হয়নি ৫৯ কোটি টাকার চিনি

বাজারে চাহিদা থাকলেও বিক্রি হয়নি ৫৯ কোটি টাকার চিনি
×

রাজ্জাক মিকা, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৮ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেওয়ানগঞ্জের জিল বাংলা চিনিকলের চার হাজার ৭০০ টন চিনি অবিক্রিত রয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৯ কোটি টাকা। কর্তৃপক্ষের দাবি, বাজারে তুলনামূলকভাবে পরিশোধন করা চিনির মূল্য কম। কিন্তু সরকার নির্ধারিত চিনির মূল্য বেশি। সে কারণে ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা থাকলেও ডিলার বা ব্যবসায়ী পর্যায়ে দেশীয় চিনিকলে উৎপাদিত চিনির চাহিদা কম। ফলে অর্থবছর পেরিয়ে গেলেও মিলটিতে ৫৯ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মাড়াই মৌসুমে জিল বাংলা চিনিকলে ৮৪ হাজার ৯০০ টন আখ মাড়াই করে চিনি উৎপাদন হয় পাঁচ হাজার ৩৪৮ টন। মিলটিতে ওই মৌসুমে আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাত হাজার ২০০ টন এবং চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার হাজার ৯০০ টন। আখ চাষ বৃদ্ধির ফলে আসন্ন ২০২৬-২৭ মাড়াই মৌসুমে মাঠে মাড়াইযোগ্য আখ রয়েছে ৫০ হাজার ১৫ একর। আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা সাত হাজার ৫০০ টন। চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ হাজার ৩৯০ টন।

জিল বাংলা উৎকৃষ্ট মানের চিনি উৎপাদনকারী ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান। অন্যান্য মিলে উৎপাদিত চিনির তুলনায় এখানকার চিনির গুণগত মান বেশ ভালো। এই চিনি বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনিশিল্প করপোরেশন নির্ধারিত ডিলারের মাধ্যমে বাজারজাত করে থাকে। বর্তমানে দেশীয় মিলে উৎপাদিত প্রতি কেজি চিনির দর ১২৫ টাকা। কিন্তু বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজি পরিশোধিত চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। প্রতি কেজি চিনিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি হওয়ায় ডিলাররা বাজারজাতের উদ্দেশ্যে এই চিনি নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে মিলটিতে প্রায় ৫৯ কোটি টাকা মূল্যের চার হাজার ৭০০ টন চিনি গুদামে পড়ে আছে।

ভোক্তাদের দাবি, জিল বাংলায় উৎপাদিত চিনি বাজারের অন্যান্য চিনির তুলনায় উৎকৃষ্ট। কিন্তু বাজারে জিল বাংলা চিনিকলে উৎপাদিত চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। সে কারণে তারা পরিশোধিত চিনি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাহাদুরাবাদ গ্রামের ফয়জুর রহমান বলেন, জিল বাংলায় উৎপাদিত চিনি উপাদেয় এবং গুণগতমান অনেক ভালো। কিন্তু সব সময় এই চিনি বাজারে পাওয়া যায় না। দাম বেশি হলেও ভোক্তরা এই চিনি কিনতে আগ্রহী। গ্রাহকের চাহিদার কথা চিন্তা করে জিল বাংলায় উৎপাদিত চিনি বাজারে সরবরাহ করা উচিত।

দেওয়ানগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী লিপন মিয়া জানান, বাজারে জিল বাংলায় উৎপাদিত চিনির চাহিদা বেশি। গ্রাহকরা এসে জিল বাংলার চিনি খোঁজেন। এই চিনি কিছুটা হলুদাভ। পরিশোধিত চিনি সাদা। গ্রাহকেরা জিল বাংলার চিনি দেখে চিনতে পারেন। কিন্তু সব সময় এই চিনির সরবরাহ থাকে না। সে কারণে বাধ্য হয়ে গ্রাহকরা পরিশোধিত চিনি কিনছেন।

জিল বাংলা চিনিকলের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আলাউদ্দিনের ভাষ্য, জিল বাংলায় উৎপাদিত চিনির বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু পরিশোধিত চিনির দাম কম হওয়ায় চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের ডিলাররা এই চিনি সরবরাহ করছেন না। সে কারণে এই মিলে চিনি অবিক্রিত রয়েছে। 

বিষয়টি জানতে চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের পরিচালক (বাণিজ্যিক) আজহারুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ধরেননি।

জিল বাংলা চিনিকলের ইনচার্জ (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) ফেরদৌসুল আলম বলেন, বাজারে জিল বাংলার চিনির চাহিদা রয়েছে। দাম বেশি হওয়ার কারণে এই চিনি নিচ্ছেন না ডিলাররা। সে কারণে গত মাড়াই মৌসুমের প্রায় ৫৯ কোটি টাকা মূল্যের চার হাজার ৭০০ টন চিনি অবিক্রিত রয়েছে। চিনি বিক্রয়ের জন্য খাদ্য ও চিনিশিল্প করপোরেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

আরও পড়ুন

×