ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খননে নবজন্ম দুই খালের

কৃষিতে নতুন প্রাণ, ফিরছে জীববৈচিত্র্য

খননে নবজন্ম দুই খালের
×

খননের পর নতুন রূপে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের অন্তাব খাল সমকাল

 পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

পীরগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ও সেনগাঁও ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে যাওয়া মৃতপ্রায় অন্তার খাল এবং পীরগঞ্জ ইউনিয়নের চাপোড় খাল পুনঃখননে পেয়েছে নবজন্ম। নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে স্থানীয় কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য। বৃদ্ধি পেয়েছে সৌন্দর্য। দূর হয়েছে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ।

এক দশকেরও বেশি সময় প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল দুটি মাটিতে ভরাট এবং অবৈধ দখলের কারণে প্রায় মৃত অবস্থায় ছিল। খালের ভরাট করা অংশে শুষ্ক মৌসুমে চাষ হতো গম, ভুট্টা ও আখ। দেখা মিলত না মাছ ও জলজ প্রাণীর। বর্ষায় পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় খালের দুধারে বিস্তীর্ণ এলাকায় সৃষ্টি হতো জলাবদ্ধতা। পানিতে ডুবে হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল নষ্ট হতো।
অন্তার খাল উপজেলার আমতলিতে কাহানাই নদীতে ও চাপোড় খাল মছলন্দপুরে টাঙ্গন নদীতে গিয়ে যুক্ত হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম জানান, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং স্থানীয় প্রশাসনের তদারকিতে গত ২ মে প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকায় খাল দুটি পুনর্খননের কাজের উদ্বোধন করে স্থানীয় এমপি জাহিদুর রহমান জাহিদ। ৩০ জুন কাজ শেষ হয়। 
এর পর খাল দুটি প্রথম বর্ষাতেই পানিতে পূর্ণ হয়ে উঠেছে। আশপাশের কৃষিজমির পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে খালে দেওয়া হয়েছে ড্রেনেজ-সংযোগ। ফলে মাঠগুলোয় আর আগের মতো নেই জলাবদ্ধতা। পানির প্রবাহ থাকায় বিল থেকে খালে ঢুকেছে মাছ। দেখা মিলছে দেশি প্রজাতির শোল, টাকি, পুঁটি, খলিশা, কই ও শিং মাছের।
খালের দুই পাড়ে লাগানো সবুজ ঘাস এবং নতুন রোপণ করা কৃষ্ণচূড়া ও সুপারি গাছের সারি এক মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। দুই পাড়ে করা হয়েছে হাঁটার ব্যবস্থা। কৃষিতে ফিরেছে স্বস্তি। পানিতে ডুবে ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কাও দূর হয়েছে।

পটুয়াপাড়া গ্রামের নবাব, আব্দুর রহমানসহ অনেকে জানান, আগে খালে পানি আটকে কয়েকটি বিলের হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল নষ্ট হতো। এখন পানি দ্রুত সরে যাচ্ছে। পানিতে ডুবে আর ফসল নষ্ট হবে না। আনোয়ারা বেগম, কইলী রানীসহ কয়েকজন নারী জানান, এখন খালে পানি থাকবে। সেই পানিতে তারা হাঁস চাষ করতে পারবেন।
আলমগীর হোসেন, আকরাম আলী নামে দুই যুবক জানান, খালটি পুনঃখনন করায় মাছ চাষের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা সেখানে মাছ চাষের চিন্তা করছেন। হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন ও পীরগঞ্জ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোকলেসুর রহমান চৌধুরী জানান, অন্তার খাল ঘিরে গড়ে উঠেছে ১০টি ছোট ছোট সমিতি। চাপোড় খাল ঘিরে হয়েছে ৫টি সমিতি। তারা জানান, খালটি ঘিরে তাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। দুই পাড়ে রোপণ করা ছয় হাজার সুপারি গাছ এবং অন্তার ব্রিজ এলাকায় খালের শুরুতে দুই পাশে কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানো হয়েছে।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, অন্তার খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি এ এলাকার কৃষিতে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে। ফসলের উৎপাদন বাড়বে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদার জানান, অত্যন্ত স্বচ্ছতা সঙ্গে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। পুনরায় খালটি যেন ভরাট না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুর রহমান জানান, বর্তমান সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে।

আরও পড়ুন

×