আমনের ৩৩ হেক্টর বীজতলা নষ্ট, উৎপাদন কমার শঙ্কা
জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা। সম্প্রতি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের বিল থেকে তোলা সমকাল
মাসুম লুমেন, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এতে নিম্নাঞ্চলের আমন ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েকদিন ধরে পানিতে থাকায় কিছু বীজতলার চারা হলুদ হতে শুরু করেছে। বৃষ্টি বন্ধ না হলে পানিতেই সব চারা পচে যাবে। তখন বেশি দামে চারা কিনে রোপণ করতে হবে। কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার কিশামত মালিবাড়ি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম।
কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে গাইবান্ধা জেলার অধিকাংশ এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এতে আমনের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় ধান উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, নতুন করে আর বীজতলা তৈরির সময় নেই। জলাবদ্ধতার কারণে জেলার অনেক এলাকায় বীজতলা পুরোপুরি পানির নিচে। চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আগামী আমন উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৩৩ হাজার ১২০ হেক্টর জমি। এসব জমিতে ধান রোপণের জন্য সাত হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টিতে ১৩২ হেক্টর বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত আছে। এরমধ্যে ৩৩ দশমিক ৫ হেক্টর জমির বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। আর বীজতলাসহ জেলার প্রায় ৩১০ হেক্টর জমির শাকসবজি পানির নিচে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার খোলাহাটি, কুপতলা, মালিবাড়ি, কিশামত মালিবাড়ি, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর এবং পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বীজতলা পানিরে নিচে তলিয়ে আছে। কিছু বীজতলা থেকে চারা সরিয়ে ফেলছেন কৃষকেরা।
সদর উপজেলা মালিবাড়ি গ্রামের কৃষক জাহিদুল মিয়া বলেন, এক মণ ধানের বীজ করেছিলাম। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে চারা পানিতে তলিয়ে গেছে। কিছু বীজতলা নষ্ট হয়েছে। পানি কমে গেলেও নতুন করে আবার ধানবীজ কিনে বীজ বপন করা সম্ভব নয়। চারার অভাবে হয়তো কিছু জমিতে আবাদ করতে পারব না। শ্রীপুর ইউনিয়নের শহিদুল ইসলাম ৪৫ শতাংশ জমিতে দেড় মণ ধানের বীজতলা করেছেন। টানা বৃষ্টিতে তাঁর সব বীজতলা হাঁটুপানিতে তলিয়ে আছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল আলম বলেন, সদরে ১৩ হেক্টর জমির বীজতলা নষ্ট হয়েছে। তবে এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গাইবান্ধা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক (শস্য) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, বৃষ্টি এবং পানি বেড়ে
যাওয়ার কারণে জেলার কয়েক উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেসব স্থানে অনেক বীজতলা পানির নিচে। আর কিছু বীজতলা নষ্ট হয়েছে। জেলায় অতিরিক্ত এক হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বীজ বপন করা হয়েছে। তাই আমনের উৎপাদন কম হওয়ায় আশঙ্কা নেই।
- বিষয় :
- আমন