ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক সপ্তাহে দুইবার ক্যামেরাবন্দি সুন্দরবনের রাজা, একবার ডাঙায়–আরেকবার জলে

এক সপ্তাহে দুইবার ক্যামেরাবন্দি সুন্দরবনের রাজা, একবার ডাঙায়–আরেকবার জলে
×

ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৪৯

কখনো বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনে রাজসিক পদচারণা, কখনো আবার নদীতে সাঁতার কেটে পারাপার—এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুইবার বনকর্মীদের মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সুন্দরবনের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ হঠাৎ বনরাজের এমন উপস্থিতিতে মুগ্ধ বনকর্মীরাও।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সুন্দরবনে উপযুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে বাঘের বিচরণ আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বেড়েছে হরিণের সংখ্যাও।

গত শুক্রবার দুপুরে সুন্দরবনের শালা নদীতে তখন জোয়ার। আন্ধারমানিক বন কার্যালয়ের পুকুরের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন বনকর্মী শ্যামল কুমার পাল। হঠাৎ পেছনে ফিরে দূরে একটি বাঘ দেখতে পান তিনি। বাঘ দেখে দৌড়ে বন কার্যালয়ে গিয়ে সহকর্মীদের বিষয়টি জানান। পরে বন বিভাগের কর্মী ইমতিয়াজ মাসরুর নিজের মুঠোফোনে বাঘটির প্রায় ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও ধারণ করেন।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, নদীর পাড়ের দক্ষিণ দিক থেকে এসে বাঘটি কিছুক্ষণ থামে। চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে পরে উত্তর দিকের জঙ্গলে ঢুকে যায়। প্রায় ১৫ মিনিট ওই এলাকায় অবস্থান করেছিল বাঘটি। বন কর্মকর্তাদের ধারণা, এটি একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘিনী।

এর দুই দিন পর রোববার সকালে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের টাইগার পয়েন্ট এলাকায় দেখা মেলে আরেক বাঘের। ওই সময় বন বিভাগের একটি বোট নদীতে টহল দিচ্ছিল। হঠাৎ বন থেকে বেরিয়ে একটি বাঘকে নদীতে নেমে সাঁতার কাটতে দেখা যায়। বিরল এ দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করেন স্মার্ট টিমের বোটচালক সাইফুর রহমান।

সাইফুর রহমান বলেন, ‘টাইগার পয়েন্ট এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিলাম। হঠাৎ বন থেকে একটি বাঘ বেরিয়ে নদীতে নামে। মাঝ নদীতে আসার পর ইঞ্জিনচালিত বোটের শব্দ পেয়ে সেটি আবার বনে উঠে যায়। বিরল এ দৃশ্য দেখার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, খাবারের সন্ধান, নিজের বিচরণক্ষেত্র পরিবর্তন কিংবা প্রাকৃতিক প্রয়োজনেই বাঘ নিয়মিত সাঁতার কাটে। তবে টহলের সময় এভাবে কাছ থেকে বাঘের সাঁতার কাটার দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের দক্ষিণে একটি বাঘিনীকে অবমুক্ত করা হয়। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি বৈদ্যমারী ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন শরকির খালসংলগ্ন বন থেকে ফাঁদে আটকে থাকা অবস্থায় আহত বাঘিনীটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

অবমুক্ত করা বাঘিনীর চলাফেরা পর্যবেক্ষণে প্রায় আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এসব ক্যামেরায় এরই মধ্যে নতুন করে আরও তিনটি বাঘের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। শুধু বাঘ নয়, ক্যামেরায় চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, মেছো বাঘ, বনমোরগ ও বন্য শুকরসহ নানা বন্যপ্রাণীর উপস্থিতিও ধরা পড়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনে বাঘের বিচরণ আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বেড়েছে হরিণের সংখ্যাও। নিয়মিত টহলের সময় বাঘের পায়ের ছাপও আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

×