একদিনের ব্যবধানে দুবার দেখা মিলল রয়েল বেঙ্গল টাইগারের
সুন্দরবনের নিস্তব্ধতা ভাঙতেই যেন হঠাৎ হঠাৎ দেখা দিচ্ছে বনরাজ। ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ | ০২:৪৩
মাত্র একদিনের ব্যবধানে বনকর্মীদের মুঠোফোনের ক্যামেরায় দুবার ধরা পড়ল সুন্দরবনের রাজা রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সুন্দরবনের নিস্তব্ধতা ভাঙতেই যেন হঠাৎ হঠাৎ দেখা দিচ্ছে বনরাজ। কখনও বন বিভাগের অফিসের সামনে রাজসিক পদচারণা, কখনও নদীতে সাঁতরে চলা।
বন বিভাগ বলছে, উপযুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে ওঠায় সাম্প্রতিক সময়ে বাঘের বিচরণ আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে।
গেল শুক্রবার দুপুর। সুন্দরবনের শালা নদীতে তখন জোয়ার। আন্ধারমানিক বন কার্যালয়ের পুকুরের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন বনকর্মী শ্যামল কুমার পাল। হঠাৎ পেছনে ফিরে দেখেন, দূরে দাঁড়িয়ে একটি বাঘ। দৌড়ে অফিসের তিনতলায় উঠে সহকর্মীদের খবরটা দিতেই সবাই তাকান সেদিকে। এ সময় বনবিভাগের কর্মী ইমতিয়াজ মাসরুর মুঠোফোনে ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ধারণ করেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র থেকে ধারণ করা এই ভিডিওতে দেখা যায়, নদীপারের দক্ষিণ দিক থেকে এসে বাঘটি কিছুক্ষণ থামে। চারপাশে দেখে আবার উত্তর দিকের জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। বাঘটি সেখানে প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থান করেছিল। বন কর্মকর্তাদের ধারণা, এটি একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘিনি।
এর পরের ঘটনা গত রোববার সকালের। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের টাইগার পয়েন্ট এলাকা। বন বিভাগের বোট টহল দিচ্ছিল নদীতে। হঠাৎ বনরক্ষীদের চোখে পড়ে বন থেকে বেরিয়ে সাঁতার কেটে নদী পার হচ্ছে একটি বাঘ। মুহূর্তটি মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করেন স্মার্ট টিমের বোটচালক সাইফুর রহমান।
সাইফুর বলেন, টাইগার পয়েন্ট এলাকায় আমরা নিয়মিত টহল দিচ্ছিলাম। হঠাৎ বন থেকে একটি বাঘ বেরিয়ে নদীতে নেমে পড়ে। বাঘটি সাঁতরে মাঝ নদীতে আসার পর ইঞ্জিনচালিত বোটের শব্দ পেয়ে ফিরে বনে চলে যায়। বিরল এ দৃশ্য দেখতে পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলন, খাবারের সন্ধান, নিজের এলাকা পরিবর্তন কিংবা প্রাকৃতিক প্রয়োজনেই বাঘ নিয়মিত সাঁতার কাটে। টহলের সময় এভাবে কাছ থেকে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা মেলে না।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের দক্ষিণে একটি বাঘিনিকে অবমুক্ত করেছিল বন বিভাগ।
এর আগে ৪ জানুয়ারি বৈদ্যমারী ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন শরকির খালসংলগ্ন বন থেকে ফাঁদে আটকে থাকা বাঘিনিটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অবমুক্ত করা বাঘিনির চলাফেরা পর্যবেক্ষণে প্রায় আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা। এসব ক্যামেরায় এরই মধ্যে নতুন করে আরও তিনটি বাঘের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। শুধু বাঘই নয়, ক্যামেরায় ধরা পড়েছে চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, মেছো বাঘ, বন মোরগ, শুকরসহ নানা বন্যপ্রাণী।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বাঘের বিচরণ আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বেড়েছে হরিণের সংখ্যাও। নিয়মিত টহলে বাঘের পায়ের ছাপও বেশি দেখা যাচ্ছে।