জেলায় ৬০০ প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন শিক্ষা কর্মকর্তা
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঠাকুরগাঁও জেলার সাতটি উপজেলার জন্য অনুমোদিত সাতজন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। তিনিই আবার পাঁচটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি দুটি উপজেলায় সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের দিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে এ পরিস্থিতি চলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত তদারকি, প্রশাসনিক কার্যক্রম, সভা-সেমিনার ও একাডেমিক মনিটরিং কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সাত উপজেলার জন্য সাতজন শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও কর্মরত আছেন একজন। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সাতটির বিপরীতে দুজন ও একাডেমিক সুপারভাইজার চারজন আছেন।
জেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসাসহ প্রায় ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ে পাঠদান শুরু বা শেষ হচ্ছে না। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও প্রয়োজনীয় তদারকি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না জনবল সংকটের কারণে।
বর্তমানে সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ঠাকুরগাঁও সদর, ভুল্লী, রুহিয়া, পীরগঞ্জ ও হরিপুর উপজেলার দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে প্রতিটি উপজেলায় সপ্তাহে এক দিনের বেশি অফিস করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিক্ষকরা দাপ্তরিক কাজের জন্য নির্দিষ্ট দিনের অপেক্ষায় থাকছেন। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং পাঠদানের মানেও প্রভাব পড়ছে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা সপ্তাহে একটি উপজেলার বেশি সময় দিতে পারছেন না। ফলে শিক্ষকরা একটি কাজের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রায় ৬০০ প্রতিষ্ঠান একজন কর্মকর্তার পক্ষে তদারকি করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত নজরদারি না থাকায় শৃঙ্খলা ও শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সদর উপজেলার ভগতগাজী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং জেলা শিক্ষক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে শিক্ষকদের নিয়মিত কাজ থাকে। কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে অফিসে এসেও অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। এতে শিক্ষকরা প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়ছেন। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করে এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং পাঁচ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ বলেন, সদর উপজেলা থেকে হরিপুর উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। পাঁচটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই মাঠে বা দাপ্তরিক কাজে থাকতে হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আক্তার বলেন, সাতটি উপজেলার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ গেজেটভুক্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রয়েছেন মাত্র একজন। সহকারী কর্মকর্তার সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিটরিং, সভা-সেমিনার এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে জটিলতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরে আসবে।
জেলার সচেতন নাগরিক, শিক্ষক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, শিক্ষার মান ধরে রাখতে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজারের শূন্য পদগুলো পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল হক জানান, সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তদারকি জরুরি হওয়ায় সংকটের সময়ে দাপ্তরিক কাজ চালানোর সুবিধার্থে সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ পেলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
- বিষয় :
- কর্মকর্তা