ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদ্মার স্রোতে নিমেষেই তলিয়ে গেলেন বাবা-ছেলে

পদ্মার স্রোতে নিমেষেই তলিয়ে গেলেন বাবা-ছেলে
×

রাজশাহীর পদ্মা গার্ডেনের বালুচরে স্বামী-সন্তানহারা জাহেরা বেগমের আর্তনাদ সমকাল

 রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মার চরে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কাশবন কেটে চলত সংসার। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার দুপুরেও কাশবন বোঝাই নৌকা নিয়ে ফিরছিলেন। পথে এক নিমেষেই সব ওলটপালট হয়ে গেল। পদ্মার তীব্র স্রোতে চোখের পলকে তলিয়ে গেলেন আফসার আলী (৬০) এবং একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে জিয়ারুল হক (৩০)। পরিবারের দুই প্রধান কাণ্ডারি। নৌকার যাত্রী জাহেরা বেগমসহ ছয়জন অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হলেও নদীর ভেতরে হারিয়ে গেছেন তাঁর স্বামী।  

পদ্মা গার্ডেনের বালুচরে বসে স্বামী-সন্তানহারা জাহেরা বেগমের বুকফাটা আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে রাজশাহীর বাতাস। আর্তনাদ করে তিনি বলছেন– ‘ও আমার সোনারে, ও আমার জানরে...। আমার সব হারায়ে গেল রে...। আমার জানরে কেউ ফিরায়ে দেন...।’

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর পদ্মা নদীর চর এলাকা থেকে কাশবন কেটে তা বিক্রি করার উদ্দেশ্যে ছোট ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকায় বোঝাই করা হয়। আফসার আলী, তাঁর ছেলে জিয়ারুল হক, স্ত্রী জাহেরা বেগমসহ মোট আটজন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি লালন শাহ মুক্তমঞ্চ ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নৌকাটি শহরের বড়কুঠি পদ্মা গার্ডেনের কাছাকাছি পৌঁছলে পদ্মার প্রচণ্ড ঘূর্ণিস্রোতে পড়ে মুহূর্তের মধ্যেই ডুবে যায়।
নৌকাটি ডুবতে দেখে নদীর ঘাটে থাকা স্থানীয় জেলেরা তড়িঘড়ি অন্য একটি নৌকা নিয়ে এগিয়ে আসেন। তাদের সাহসিকতায় জাহেরা বেগম, সাদ্দাম, জাহেদুলসহ ছয়জন জীবিত উদ্ধার হন। তবে নৌকার মাঝি আফসার আলী ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল প্রচণ্ড স্রোতের টানে চোখের পলকে নদীর গভীরে তলিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে উদ্ধার কাজে নামে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল। কিন্তু পদ্মায় তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিখোঁজ বাবা-ছেলের কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে রাতের মতো উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মঞ্জিল হক জানান, খবর পাওয়ামাত্র ঘটনাস্থলে ডুবুরি দল পাঠানো হয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। নিখোঁজদের জীবিত পাওয়ার আশা ক্ষীণ হলেও পরবর্তী দিন সকালে পুনরায় উদ্ধার অভিযান চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
জীবিত উদ্ধার পাওয়া জাহেরা বেগম পদ্মাপাড়ে বসে বিলাপ করছিলেন– ‘আমরা চর থেকে বন কেটে নৌকা নিয়ে ফিরছিলাম। হঠাৎ স্রোতে পড়ে নৌকা ডুবে গেল। চোখের পলকে আমার স্বামী-সন্তান হারিয়ে গেল। আমার সংসার শেষ হয়ে গেল, ওদের কেউ আমাকে ফিরিয়ে দেন।’ দুই উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে এক লহমায় সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়া এই হতদরিদ্র পরিবারটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।

আরও পড়ুন

×