ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় দেড় বছরে এইচআইভি শনাক্ত ৯৩ জনের

বগুড়ায় দেড় বছরে এইচআইভি শনাক্ত ৯৩ জনের
×

ছবি- সংগৃহীত

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ | ২১:৪২

বগুড়ায় গত দেড় বছরে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি (এইচআইভি) সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি রয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ১৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এই সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের এইচটিসি (এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং) সেন্টার সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান, এইচআইভির প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন জ্বর, মাথাব্যথা ও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি। ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক, অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ, ব্যবহৃত সুঁই বা সিরিঞ্জ ভাগাভাগি এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের কারণে এইচআইভি সংক্রমণ ঘটে। আক্রান্তদের মধ্যে তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সীদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ১৫ জন এইচআইভি পরীক্ষার জন্য আসেন। কারও শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কাউন্সেলিং দেওয়া হয়। রোগীদের জানানো হয়, এইচআইভি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রেখে দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব। সেন্টারটিতে বিনামূল্যে পরীক্ষা, কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়। রংপুর বিভাগে এ ধরনের সেবা কেন্দ্র না থাকায় ওই বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকেও রোগীরা চিকিৎসা নিতে এখানে আসেন। 

এইচটিসি সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার এক দম্পতি পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, সম্প্রতি পরীক্ষায় তাদের দুজনের শরীরেই এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রীর শরীরে ভাইরাসের মাত্রা স্বামীর তুলনায় বেশি। বিষয়টি জানার পর তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চিকিৎসা নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৫৫ বছর বয়সী এক এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি বলেন, রোগ শনাক্ত হওয়ার পর প্রথমদিকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এমনকি আত্মহত্যার চিন্তাও মাথায় এসেছিল। পরে এইচটিসি সেন্টারে নিয়মিত কাউন্সেলিং নেওয়ার পর তার মানসিক অবস্থার উন্নতি হয়। বর্তমানে তিনি নিয়মিত ওষুধ সেবন করে সুস্থ আছেন।

শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর আব্দুস সালাম ও মনিরা সুলতানা জানান, অনেক রোগী এইচআইভি শনাক্ত হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কেউ আত্মহত্যার চিন্তা করেন, আবার কেউ হতাশা থেকে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দেওয়ার মতো নেতিবাচক চিন্তাও করেন। তাই আক্রান্তদের নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের আওতায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ওষুধ সেবন ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের ডা. মো. সুলতান ইবনে সাঈদ বলেন, অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক এইচআইভি সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে গর্ভাবস্থা, প্রসবকাল বা বুকের দুধের মাধ্যমেও শিশুর শরীরে এইচআইভি সংক্রমিত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এইচআইভি প্রতিরোধে প্রতিবার যৌনমিলনের সময় সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার, একজন যৌনসঙ্গীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা, পরীক্ষা ছাড়া রক্ত গ্রহণ না করা এবং অন্যের ব্যবহৃত সুঁই বা সিরিঞ্জ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি এইচআইভি আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং নিলে মা থেকে শিশুর শরীরে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

আরও পড়ুন

×