ওয়্যাং সুলিন থেকে নুর উদ্দিন
সামাজিক মাধ্যমে পরিচয়-প্রেম, শুক্রবার বিয়ে
নাজমিন আক্তার লিজা ও ওয়্যাং সুলিন (নুর উদ্দিন)
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ১০:৪৫
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়। সেখান থেকে বন্ধুত্ব, এরপর প্রেম। মাত্র দুই মাসের সেই ভার্চুয়াল সম্পর্কই এবার গড়াচ্ছে বাস্তব জীবনের নতুন অধ্যায়ে। হাজার মাইল দূরের চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন এক চীনা যুবক। আগামীকাল শুক্রবার হবে তাদের পারিবারিক বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশি জামাইকে একনজর দেখতে এবং তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকায় এখন যেন উৎসবের আবহ।
জানা গেছে, ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের ভাটগাঁও গ্রামের মো. নাজিম উদ্দিনের মেয়ে নাজমিন আক্তার লিজা মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রায় দুই মাস আগে ফেসবুকে তাঁর পরিচয় হয় চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা ওয়্যাং সুলিনের (৩০) সঙ্গে। পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক।
বর্তমানে লিজার পরিবার নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের হাসপাতাল রোডের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন। তিন দিন পর, ২১ জুলাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম রাখেন মো. নুর উদ্দিন। একই দিন আইনজীবীর মাধ্যমে লিজার সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আগামী শুক্রবার মোহনগঞ্জ হাসপাতাল রোডের একটি বাসায় পারিবারিকভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে দুই পরিবারের স্বজনদের উপস্থিতিতে নবদম্পতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভকামনা জানানো হবে।
লিজার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চীনা দূতাবাস এবং ওয়্যাং সুলিনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার পরই দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান, বিয়ের পর ওয়্যাং সুলিন চীনে ফিরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করবেন। এরপর লিজাকেও চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে চীনা যুবকের আগমনকে ঘিরে মোহনগঞ্জে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি সেই আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে ধর্মপাশাতেও। দূরদেশের এক যুবকের সঙ্গে স্থানীয় এক তরুণীর ভালোবাসার গল্প এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে। সামাজিক মাধ্যমে শুরু হওয়া সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বাস্তব জীবনের নতুন বন্ধনে রূপ নেওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।