ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে মরিচের আবাদে বিপর্যয়, দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩২০ টাকা

টানা বৃষ্টিতে মরিচের আবাদে বিপর্যয়, দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩২০ টাকা
×

টানা ভারী বৃষ্টিতে ফরিদপুরে মাঠের অধিকাংশ মরিচগাছ পচে ও মারা গেছে। ছবি: সমকাল

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ১৭:২৭

টানা ভারী বৃষ্টিতে ফরিদপুরের কৃষিপ্রধান উপজেলা মধুখালীতে গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। মাঠের অধিকাংশ মরিচগাছ পচে ও মারা যাওয়ায় চরম লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে মরিচের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩২০ টাকায় পৌঁছেছে।

মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব এলাহী বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে অধিকাংশ জমিতে পানি জমে মরিচগাছ পচে ও মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা হবে।

কৃষকদের দাবি, উপজেলার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচের খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নে।

রায়পুর ইউনিয়নের মরিচচাষি রোকনউজ্জামান, ফিরোজ মিয়াসহ কয়েকজন জানান, অতিবৃষ্টিতে প্রায় সব গাছই মারা গেছে। বাধ্য হয়ে খেত তুলে ফেলতে হচ্ছে। সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আগেই বেড়েছিল। তার ওপর পুরো খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগের টাকাও উঠছে না। সরকারি সহযোগিতা পেলে আবার নতুন করে চাষ শুরু করতে পারব।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ফরিদপুর জেলায় ৩ হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার ৭০৬ মেট্রিক টন। তবে টানা বৃষ্টিতে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বাজারেও। ফরিদপুর শহরের হাজী শরিয়তুল্লাহ বাজার, চকবাজার, টেপাখোলা বাজার ও হেলিপ্যাড বাজার ঘুরে দেখা গেছে, জাতভেদে মরিচের কেজি ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে মরিচের সরবরাহ একেবারেই কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।

ফরিদপুর জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি মানিক মজুমদার বলেন, মাঠে মরিচ নেই, কিন্তু বাজারে ঝালের দাম বাড়ছেই। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা না দেওয়া হলে আগামী মৌসুমে মরিচ চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×