সাফল্যের শুরু একশ ডিমে
হাওরে জলকেলি শেষে খামারে ফিরছে নবীগঞ্জের জুনেদের হাঁসের পাল। মঙ্গলবার তোলা সমকাল
এম. এ. আহমেদ আজাদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ০৯:২৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
হাঁস পালন করে ভাগ্য বদলে যাচ্ছে নবীগঞ্জের গ্রামীণ এলাকার তরুণ-যুবার। এই পরিবর্তনের সূচনা দিয়েছেন জুনেদ মিয়া নামের এক হাঁদের খামারি। তাঁর সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যরাও গড়ে তুলছেন খামার। ফলে হাঁস পালনে স্বনির্ভরতার মাত্রা বাড়ছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
অর্থাভাবে এক সময় পড়ালেখা থমকে যাওয়া জুনেদ মিয়া অনেক কষ্টে দিন পাড়ি দিয়েছেন। এক পর্যায়ে সামাজিক মাধ্যমে এক সফল হাঁস খামারির গল্পের ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি।
২০১৮ সালের দিকে জুনেদ একটি ছোট হাঁসের খামার গড়ে তোলেন। ভাগ্যক্রমে শুরু থেকেই আসতে থাকে সাফল্য। এখন তিনি নবীগঞ্জের সবচেয়ে বড় হাঁসের খামারের মালিক। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে প্রায় তিন হাজার হাঁস। প্রতিদিন এসব হাঁসের জন্য লাগে প্রায় ৬ মণ ধান। তবে হাওরে প্রাকৃতিক খাবারের উৎস কমে যাওয়ায় বর্তমানে তিনি হাঁস বড় হওয়ার পরপরই বিক্রি করে দেন।
খামারের শুরুর কথা তুলে ধরে জুনেদ বলেন, বেকার থাকার সময় ভাবতেন দেশে থেকে কী করা যায়। বাড়ির পাশে নদী ও বড় হাওর থাকায় হাঁস পালনের জন্য চমৎকার পরিবেশ ছিল। তাই অন্য কিছুর চিন্তা বাদ দিয়ে হাঁস পালনের চিন্তা আসতেই শুরু করে দেন কাজ।
জুনেদ কুরিয়ারের মাধ্যমে ঢাকা থেকে একটি ইনকিউবেটর সার্কিট অর্ডার করে নিজের বাড়িতে স্থাপন করেন। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ১০০টি ডিম দিয়ে বাচ্চা ফোটানোর কাজ শুরু করেন। ২৮ দিন পর ১০০টি ডিম থেকে ৭০টি বাচ্চা জন্ম নেয়। ৮০ ভাগ প্রাকৃতিক খাবারে সেগুলো দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং ভালো মুনাফা আসে।
ভালো ফলাফল দেখে পরবর্তী সময়ে তিনি স্থানীয় হ্যাচারি থেকে এক দিন বয়সী ৫০০টি বাচ্চা এনে লালন-পালন শুরু করেন। তিন মাস পালনের পর সেগুলো বিক্রি করে দেন। এতে খরচ হয়েছিল প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং বিক্রি করেছিলেন এক লাখ ২০ হাজার টাকায়। শুরুতেই লাভ হয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা। বর্তমানে তিনি প্রতি কিস্তিতে দুই থেকে তিন হাজার বাচ্চা তোলেন। চলতি বছরে তিন হাজার হাঁসের বাচ্চা তুলেছিলেন, যার মধ্যে এক হাজার ৫০০ হাঁস আড়াই মাস বয়সে বিক্রি করে দেন। এতে লাভ হয় প্রায় ৩ লাখ টাকা। বাকি ডিম দেওয়ার জন্য রেখেছিলেন। তবে হাওরে খাবার কমে যাওয়ায় আগেই বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন।
সদ্য বদলি হওয়া নবীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, সর্বশেষ তিনিই জুনেদের খামারের সাফল্য দেখেছেন। হাঁস খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। ফলে এলাকায় হাঁস পালন ও খামারির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
- বিষয় :
- ডিম