ইকো পার্কে মরা গাছের আড়ালে তরতাজা গাছ নিধন
দামুড়হুদা শিবনগর ডিসি ইকো পার্কের তরতাজা গাছ সম্প্রতি কেটে ফেলা হয় সমকাল
চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ০৯:২৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগর ডিসি ইকো পার্কে নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি মরা গাছের দোহাই দিয়ে তরতাজা গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার উন্মুক্ত টেন্ডার বা স্থানীয় মাইকিং ও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই গোপনে গাছ বিক্রির এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারীর যোগসাজশে নামমাত্র মূল্যে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই দামুড়হুদা শিবনগর ডিসি ইকো পার্কের কিছু মরা গাছ বিক্রির কথা বলে পার্ক চত্বরে দুজন কাঠ ব্যবসায়ীকে ডাকা হয়। উন্মুক্ত কোনো দরপত্র বা নোটিশ ছাড়াই চন্দ্রবাস গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ১৯টি আম, ৬টি শিশু ও ৪টি কাঁঠালসহ মোট ২৯টি গাছ কেনেন। পরদিন ২০ জুলাই দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত একটি কার্যাদেশ সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে দেওয়া হয়। কার্যাদেশ পাওয়ার পরপরই মরা গাছের আড়ালে পার্কের তরতাজা গাছগুলোও কেটে ফেলার মচ্ছব শুরু হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি বনায়ন ও পার্কের গাছ কাটার যে গোপনীয় প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, তা আইনবহির্ভূত। কোনো ইজারার বিজ্ঞপ্তি বা সাইনবোর্ড ছাড়াই রাতের আঁধারে বা গোপনে গাছ বিক্রি স্পষ্ট অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।
গাছের ক্রেতা নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ‘নিলামে আর কে কে ছিলেন আমার জানা নেই। আমি যখন ডিসি ইকো পার্কে আসি, তখন কোনো ব্যবসায়ী ছিলেন না; ইউএনও স্যার আর অফিসের লোকজন ছিলেন। আমি ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় গাছগুলো কিনেছি।’
এদিকে পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বাহালুল হক জানান, ‘ইউএনও স্যার আমাকে গাছের ব্যবসায়ী ডেকে দিতে বলেছিলেন। আমি গ্রামের দুজনকে জানালে তারা দাম বলেন এবং স্যার তাদের কাছে গাছ বিক্রি করেন। তবে গত দুই দিন আমি পার্কে না থাকায় কয়টি গাছ কাটা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বিশ্বাস বলেন, ‘বিক্রীত গাছের চেয়ে অতিরিক্ত গাছ কাটা হয়েছে বলে শুনেছি। যদি এটি সত্য হয়, তবে এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযোগের বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন দাবি করেন, ‘এটি উন্মুক্ত নিলামেই হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তে কমিটির মাধ্যমেই তা করা হয়েছে। নিলামের ফাইল ডিসি স্যারের কাছে থাকায় সঠিক কতটি গাছ ছিল তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে নিলামের মরা গাছের পাশাপাশি আরও কিছু অতিরিক্ত গাছ কাটা হয়েছে বলেও অভিযোগ পেয়েছি। এখন আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি, সরেজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- গাছ