ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খানজাহান আলী বিমানবন্দর

খুলনায় বিমানবন্দর নির্মাণে আগ্রহী চীন

চার প্রস্তাব দিয়ে বেবিচককে চিঠি

খুলনায় বিমানবন্দর নির্মাণে আগ্রহী চীন
×

 খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০৫ | আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে স্থবির হয়ে থাকা খুলনার খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। গত ২৫ জুলাই চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন। এর পর ৩০ জুলাই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। চিঠিতে চারটি পদ্ধতি উল্লেখ করে আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো একটি কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এই অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, বিমানবন্দরটি চালু হলে মোংলা বন্দর, সুন্দরবন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৎস্য শিল্প ও পর্যটন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

প্রায় তিন দশক আগে শুরু হয় খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্প। খুলনা নগরী থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লা এলাকায় বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ৯৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বিমানবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মাটি ভরাটের পর প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালে নতুন করে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। ব্যয় ধরা হয় ৫৪৫ কোটি টাকা। 

২০১৮ সালের আগস্ট মাসে ওই এলাকায় আরও ৫২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ওই সময় পিপিপির আওতায় বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই করে নেতিবাচক প্রতিবেদন দিলে প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে যায়। 

এর পর প্রতিবছরই বিমানবন্দর নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি দিয়ে আসছে এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীসহ উন্নয়নকর্মীরা। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, যশোর বিমানবন্দরের ৭০ শতাংশ যাত্রী খুলনার। যশোর থেকে খুলনার যোগাযোগ সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর হওয়ায় এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা সেটি এড়িয়ে চলেন। মোংলা বন্দর, ইপিজেড, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প বিকাশে খুলনাতেই বিমানবন্দর প্রয়োজন। 

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা জানান, গত মাসে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে চীনের কোম্পানি যোগাযোগ করে। তাদের সঙ্গে এলাকাটি পরিদর্শন করি এবং আনুষ্ঠানিক চিঠি দিতে বলি। গত ৩০ জুলাই তারা বেবিচক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে। এখন বেবিচক পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

চীনা কোম্পানির চিঠিতে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে সরকার টু সরকার (জিটুজি) ভিত্তিক সহজ ঋণ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) তৈরি, পরিচালনা ও চুক্তি শেষে হস্তান্তর (বিওটি), নকশা তৈরি, মালপত্র কেনা, নির্মাণ এবং অর্থায়ন পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে পছন্দের পদ্ধতিটি নির্ধারণ করা যেতে পারে। 

খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আসাদুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরের অভাবে বিদেশি ক্রেতা ও আমদানিকারকরা খুলনায় আসতে চান না। খুলনায় একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম রয়েছে, অথচ বিমানবন্দর না থাকায় বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো এখানে হয় না। মোংলা ইপিজেড, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সুন্দরবনের মতো পর্যটন কেন্দ্রের কারণে খুলনার কাছাকাছি একটি বিমানবন্দর খুবই প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

×