মায়ের বকুনি থেকে বাঁচতে ট্রেনে শত কিলোমিটার পাড়ি দিল দুই শিশু
মোহাম্মদ সানি ও তোফায়েল আহমেদ
কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৩৩
ঢাকায় বসবাসরত দরিদ্র পরিবারের দুই শিশু পড়াশোনার চাপ, মায়ের বকুনি ও সহপাঠীদের সঙ্গে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ট্রেনে চড়ে প্রায় শত কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে তারা কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পৌঁছায়। পরবর্তীতে এক স্থানীয় হকারের সহায়তায় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করেছে।
ট্রেনে চড়ে আসা ওই দুই শিশুর নাম মোহাম্মদ সানি (১১) এবং সমবয়সী তোফায়েল আহমেদ। তারা মায়ের বকুনি এবং সহপাঠীদের সাথে ঝগড়া করে গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে এলাকা থেকে চলে আসে।
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এগারসিন্দুর গোধূলি ট্রেনে চড়ে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওরা কুলিয়ারচর রেলওয়ে স্টেশনে নেমে এদিক-ওদিক ঘুরতে থাকে। এ সময় স্থানীয় হকার হৃদয় মিয়ার (২৫) সন্দেহ হলে তিনি তাদের সাথে কথা বলেন। একপর্যায়ে হৃদয় ওদের তার বাড়িতে নিয়ে যান।
হৃদয় মিয়া জানান, শিশুরা জানিয়েছে লেখাপড়ায় অমনোযোগিতার কারণে ওরা পরিবারের বকুনি খেত। তা ছাড়া শুক্রবার বিকেলে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে ওরা খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে সহপাঠীদের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। তাই পরিবারের শাসনের ভয়ে তারা এলাকা ছেড়ে দূরে কোথাও গিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে চড়ে।
সানি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের রুমেল মিয়ার ছেলে। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করলে তার মা রহিমা আক্তার সুমি ছেলেকে নিয়ে কাজের সন্ধানে ঢাকায় চলে আসেন। রহিমা ধানমন্ডি এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করেন। অপর দিকে তোফায়েল ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের রিকশাচালক বাবুল মিয়ার ছেলে। দুটি পরিবারই ধানমন্ডি লেকপাড় এলাকায় বসবাস করে। সানি ও তোফায়েল স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।
কুলিয়ারচর থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল শিশুদের পরিবারকে ফোনে খবর দেওয়া হলে পরিবারের লোকজন এসে ওদের নিয়ে যায়। কুলিয়ারচর থানার ওসি মো. কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, পরিবারের শাসনের ভয়ে শিশু দুটি এলাকা ছেড়ে চলে আসে। পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।