ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে ৪১৯ কিমি কাঁচা সড়কে থমকে যায় জীবন

টানা বৃষ্টিতে ৪১৯ কিমি কাঁচা  সড়কে থমকে যায় জীবন
×

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার জরমনদী গ্রামে খানা-খন্দে ভরা বেহাল সড়ক সমকাল

 সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

টানা বৃষ্টি হলেই গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৪১৯ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পরিণত হয় দুর্ভোগের পথে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও আবার পানি জমে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, কৃষক ও রোগীরা। কাদার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভাড়া বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। এতে প্রায় প্রতিদিনই যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মোট সড়কের দৈর্ঘ্য ৭৩৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩২০ কিলোমিটার পাকা এবং ৪১৯ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো সড়ক পাকাকরণের কাজ না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে কাঁচা সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্তমানে শুধু কিছু পাকা সড়কে সংস্কার কাজ চলছে।
দহবন্দ ইউনিয়নের জরমনদী গ্রামের বাসিন্দা হীরামনি বেগম বলেন, তাঁর স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন। প্রতিদিন সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যেতে হয়। টানা বৃষ্টির কারণে রাস্তায় কাদা জমে থাকায় রিকশা, ভ্যান কিংবা অটোরিকশা চালকরা যেতে চান না। ২০ টাকার ভাড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা দিতে হচ্ছে। অনেক সময় মাঝপথে নেমে গাড়ি ঠেলেও নিতে হয়। এতে প্রতিদিনই জামাকাপড় কাদায় নষ্ট হচ্ছে।
পৌরসভার কলেজপাড়ার বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, পৌর এলাকার অধিকাংশ সড়ক খানাখন্দে ভরা। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুপানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া এবং শহরের ভেতরে চলাচলই এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
ধুমাইটারি গ্রামের রিকশাচালক ছামিউল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির সময় কাঁচা রাস্তায় রিকশা চালানো অত্যন্ত কষ্টকর। অনেক সময় যাত্রীদের নামিয়ে রিকশা ঠেলে নিতে হয়। অতিরিক্ত কষ্টের কারণে কিছু বেশি ভাড়া চাইলে যাত্রীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কও হয়।

বেলকা গ্রামের শিক্ষার্থী আইরিন বেগম বলে, কাঁচা রাস্তা দিয়ে স্কুলে গেলে ড্রেস কাদায় নষ্ট হয়ে যায়। একদিন পরা পোশাক পরদিন আর ব্যবহার করা যায় না। এ কারণে অনেক সময় স্কুলে যেতে ইচ্ছা করে না।
স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, যোগাযোগব্যবস্থার দিক থেকে সুন্দরগঞ্জ এখনও অনেক পিছিয়ে। টানা বৃষ্টির সময় মোটরসাইকেলে স্কুলে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মাত্র এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতেই আধা ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। প্রতিদিনই জামাকাপড় কাদায় নোংরা হয়ে যায়।
তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি হলেই উপজেলার প্রায় সব কাঁচা সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। আগে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিবছর কাঁচা রাস্তা সংস্কারের সুযোগ ছিল। প্রায় ১৫ বছর ধরে সেই বরাদ্দ বন্ধ থাকায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না।
পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আব্দুর রশিদ রেজা সরকার ডাবলু বলেন, পৌরসভার নিজস্ব রাজস্ব দিয়ে সড়ক ও ড্রেন সংস্কার করা সম্ভব নয়। সরকারি বরাদ্দের ওপরই এসব উন্নয়নকাজ নির্ভর করে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়ে গেছে।

উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, প্রতিবছরই নতুন পাকা সড়কের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়। তবে বরাদ্দের বিষয়টি অনেকাংশে জনপ্রতিনিধিদের তদবিরের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে যে বরাদ্দ পাওয়া যায়, তা দিয়ে নতুন করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সড়ক পাকাকরণ সম্ভব নয়। এছাড়া কাঁচা সড়ক সংস্কারের জন্য আগের মতো কোনো সরকারি প্রকল্পও নেই।
সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান বলেন, গাইবান্ধা-১ আসনের মানুষের প্রধান দুটি সমস্যা হলো কাঁচা সড়ক ও নদীভাঙন। তিনি সংসদে বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন

×