ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ
ব্যাংককের হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন
মুরাদ হোসেন
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫১
| প্রিন্ট সংস্করণ
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে চব্বিশের ১৮ জুলাই ঢাকায় গুলিবিদ্ধ ঈশ্বরদীর মুরাদ হোসেন দুই বছর ধরে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ভেজথানি ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে শয্যাশায়ী।
গত বুধবার মুরাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে চিকিৎসক জানান, তাঁর স্পাইনাল কডের ৯৩ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্ত (ড্যামেজ) হয়ে গেছে। ভর্তির প্রথম দিকে কিছুটা উন্নতির আভাস পাওয়া গেলেও গত দুই বছরের নিবিড় পর্যবেক্ষণেও তাঁর কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি।
ঈশ্বরদীর পিয়ারাখালি জামতলা এলাকার আমিনুল ইসলামের ছেলে মুরাদ রাজধানীর একটি চীনা রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন। গুলি তাঁর গলা ও স্পাইনাল কডে ভেদ করে। তাঁকে প্রথমে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। আইসিইউতে চার মাস থাকার পর শরীর থেকে দুটি গুলি বের করা হয়। কিন্তু পুরো শরীর প্যারালাইজড হয়ে যায়। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাশের মাধ্যমে বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাঁকে থাইল্যান্ডের ভেজথানি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানের চিকিৎসক পাট্টারা ক্রোসান্ট প্রথমে আট মাসের মধ্যে সেরে ওঠার আশা দেখালেও দুই বছরে কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের অধ্যাপক রেজাউল করিম জানান, মুরাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বেঁচে থাকলেও সারাজীবন চলাফেরা করা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।
মুরাদের স্ত্রী মহুয়া মারজিয়া রানী বলেন, ‘এই দুই বছরে আমার পরিবার ও সংসার পুরোপুরি তছনছ হয়ে গেছে। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এই অবস্থা। দুটি সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে আমি চিন্তিত। আমরা কীভাবে বাঁচব, জানা নেই, তাও যদি মুরাদ প্রাণে ফিরে আসে– সেই আশাতেই ব্যাংককে পড়ে আছি।’
- বিষয় :
- গুলিবিদ্ধ