ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তরুণীদের আটকে পর্নোগ্রাফি তৈরি, স্বামী-স্ত্রীসহ আটক ৫

তরুণীদের আটকে পর্নোগ্রাফি তৈরি, স্বামী-স্ত্রীসহ আটক ৫
×

গ্রেপ্তার ৫ অভিযুক্ত। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ২৩:১৯ | আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ২৩:১৯

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার কিসমত করিমপুর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে স্বামী-স্ত্রী, তাদের দুই ছেলে এবং আরও একজনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে তরুণীদের দিয়ে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা ও পর্নোগ্রাফি ভিডিও তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন জেলার চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল আদালতে সোপর্দ করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন, মো. সালাউদ্দিন বিপ্লব, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার, দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন ফাহিম এবং আব্দুর রহিম। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা নোয়াখালীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান শুক্রবার সন্ধ্যায় এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে উদ্ধার হওয়া তরুণীদের একজন কৌশলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সাহায্য চান। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ধারণের ক্যামেরা, ছয়টি মোবাইল ফোন, একটি চাবুক, ছুরি, কাঁচি এবং নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া এক তরুণী বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, এক বান্ধবীর মাধ্যমে সালাউদ্দিন বিপ্লবের সঙ্গে পরিচয়ের পর পার্লারে চাকরির আশ্বাসে গত ২ আগস্ট চৌমুহনীতে আসেন। পরে তাকে একটি বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক যৌন কাজ ও পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ধারণ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব ভিডিও অনলাইনের একটি অ্যাপের মাধ্যমে সম্প্রচার করে অর্থ উপার্জন করা হতো। বাসায় থাকা অন্য কয়েকজন তরুণীকেও দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রতিবাদ করলে তাদের শারীরিক নির্যাতন করা হতো।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, এক তরুণী কৌশল করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে তাদেরকে উদ্ধারের আকুতি জানানো হয়। ওই তরুণীর ফোন পেয়ে বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তানসহ ৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে উদ্ধার হওয়া এক তরুণীর দায়ের করা মামলায় আটকদের শুক্রবার বিকালে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে প্রেরণ করা হয়। উদ্ধারকৃত তরুণীদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। 

আরও পড়ুন

×