সেই ঋতু পেল জিপিএ-৫, শঙ্কা উচ্চশিক্ষা নিয়ে
পরীক্ষার মাঝেই বাবার মৃত্যু
ঋতু খাতুন
যশোর অফিস
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৫১
যশোরের চৌগাছার মেয়ে ঋতু খাতুনের বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বিষয়ের এসএসসি পরীক্ষা ছিল। সেদিন ভোররাতেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবা কবির হোসেন মারা যান। সকালে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তুতি চললেও পরীক্ষার কথা চিন্তা করে ঋতুকে বিষয়টি জানতে দেননি স্বজনেরা। পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরে বাবার মরদেহের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়ে এই কিশোরী। আজ সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ঋতু।
অদম্য মেধাবী ঋতু খাতুন চৌগাছার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। সে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। ক্যান্সারে আক্রান্ত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির ছোট মেয়ে সে। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।
স্বজনেরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন কবির হোসেন। মেয়ের এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে বাবার নিথর মুখ দেখে তাঁকে শেষ বিদায় জানায় ঋতু। সেই গভীর শোক বুকে নিয়েই বাকি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করে এই কিশোরী।
মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ঋতু খাতুন বলল, ‘বাবা বেঁচে থাকলে আজ সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। আমার এই ফল দেখে তিনি গর্ব করতেন।’
তবে বাবার মৃত্যুর পর তাঁর উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আর্থিক সংকটে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে কি না, তা নিয়েও তাঁর দুশ্চিন্তা।
হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন বলেন, ‘ঋতু মেধাবী শিক্ষার্থী। আমরা বিশ্বাস করতাম, সে ভালো ফল করবে। বাবার অসুস্থতা, পারিবারিক দারিদ্র্য কিংবা মানসিক বিপর্যয়, কোনো কিছুই তার মেধা ও মনোবলকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।’
চৌগাছার ইউএনও ফারজানা ইসলাম বলেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও ঋতু যে ফল করেছে, তা সত্যিই অনুকরণীয়। উপজেলা প্রশাসন তার পাশে থাকবে। উচ্চশিক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।