ধোপাজান বালু-পাথরমহাল
কৌশল পাল্টে বেড়েছে লুটের তৎপরতা
ধোপাজান বালুমহালে বালু-পাথর লুটের পর পুলিশ আসার খবর পেয়ে ডুবিয়ে দেওয়া নৌকা সমকাল
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
বর্ষা এলেই বদলে যায় সুনামগঞ্জের ইজারাবিহীন ধোপাজান বালুমহালের চিত্র। নিত্যনতুন কৌশলে লুট শুরু হয় সরকারি সম্পত্তির। আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যায় একটি সিন্ডিকেট। ২৪-এর পট পরিবর্তন আগে থেকেই রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশে লুট হয়েছে এই মহাল। পট পরিবর্তনের পর দিনে দুপুরে লুট করা হয়েছে বালু-পাথর। এখনও থেমে নেই লুটের চেষ্টা। কখনও রাতের, কখনও উন্নয়নের নাম ভাঙিয়ে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফের ডলুরা চলতি নদীর ধোপাজান বালুমহালে তৎপরতা বেড়েছে লুটেরাদের। ব্যবহার হচ্ছে নতুন কৌশল। ছোট বড় নৌকায় প্রতি রাতে বের হচ্ছে বালু। বর্ষার পানি বাড়ায় বিভিন্ন খাল-নালা-হাওর হয়ে বের হচ্ছে সিলিকা বালু ও পাথর।
স্থানীয়দের সংবাদে মাঝে মধ্যে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। আটক করছে দোষীদের, জব্দ হচ্ছে নৌকা ও মালামাল। তবে পুলিশের কাছ থেকে বাঁচতে নতুন কৌশল অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছে অপরাধীদের। পুলিশ আসার খবর পেলে কিনারার কাছে গিয়ে নিজেরাই ডুবিয়ে দিচ্ছে নিজেদের বালু-পাথর ভর্তি নৌকা। পুলিশ গিয়ে কিছু পায় না, পেলেও ডুবন্ত নৌকা নিয়ে আসা সম্ভব না হওয়ায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায় না।
গত এক মাসে অভিযান চালিয়ে ছয়টি নিয়মিত মামলা করেছে পুলিশ। যার মধ্যে একটি নৌ পুলিশের। ছয় মামলায় মোট আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে ১৩ জন। বালু-পাথরসহ নৌকা জব্দ হয়েছে আটটি। সবগুলো অভিযান চলতি নদীতে হলেও তার মধ্যে একটি বাল্কহেড গত ৩১ জুলাই রক্তি নদী থেকে আটক করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা নাসু মিয়া বলেন, ‘বিগত সময়ে যেভাবে লুট হয়েছে, বর্তমানে সেভাবে না হলেও চুরি হচ্ছে। দুই একটা বড় বাল্কহেড ঢুকে বালু নিয়ে বের হয় সমঝোতায়। কারণ বড় নৌকা ঢুকা আর বাহির হবার পথ একটাই। সেখানে পুলিশের চেকপোস্ট আছে। ছোট ছোট গুলো খালে নালা দিয়ে বেরিয়ে যায় লুকিয়ে। পুলিশ যখন অভিযানে আসে তখন এসে দুই একটা ছোট নৌকা ধরে নিয়ে যায়।’
সদর থানার ওসি রতন শেখ ক্ষোভের সুরে বললেন, রাত ১২টা থেকে শুরু হয় ৪-৫টা পর্যন্ত চলে শুধু বালু চুরির ফোন। ধোপাজান রক্ষার জন্য সরকারের আরও দায়িত্বশীল সংস্থা আছে। তারা কেউ এগিয়ে আসে না। মানুষ শুধু পুলিশকে চিনে, কারণ পুলিশ কাজ করছে। এই নদীর দায়িত্ব আমাদের না, আমরা সহযোগী সংস্থা। এরপরও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এই পর্যন্ত ৬০টি মামলায় ১৮০ জন আসামি গ্রেপ্তার করেছি। অসংখ্য ড্রেজার, নৌকাসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করেছি। আমরা চাই পুলিশের পাশাপাশি নদী রক্ষার দায়িত্ব যাদের তারা এগিয়ে আসুক। সবাই মিলে চেষ্টা করলে অবৈধ বালু উত্তোলন নির্মূল হয়ে যাবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল বলেন, আমাদের কাছেও খবর আসতেছে অবৈধ বালু উত্তোলনের। আমরা দুই উপজেলাকে নির্দেশ দিয়েছি যেন কঠোরভাবে অভিযান চালানো হয়। সেই অনুযায়ী কাজও হচ্ছে। প্রশাসন অভিযান চালাচ্ছে না এটা ঠিক না। আমরা আরও কঠোর হব।
- বিষয় :
- বালুদস্যু