এসএসসিতে শতভাগ ফেল, ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শোকজ
ফাইল ছবি
নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:৫৬
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নাটোরের ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে জেলা শিক্ষা কার্যালয়।
ফল প্রকাশের পর এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা।
জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লালপুর উপজেলার মোহরকয়া দাখিল মাদ্রাসা ও বিলমাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে মোট পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করেনি।
বাগাতিপাড়া উপজেলার চিথলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, তমালতলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ এবং বাগাতিপাড়া পৌর মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে মোট ৪৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
বড়াইগ্রাম উপজেলার কুমারখালী দাখিল মাদ্রাসা, কুমরুল দাখিল মাদ্রাসা ও আটুয়া কে এস দাখিল মাদ্রাসা থেকে মোট ৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এ ছাড়া সিংড়া উপজেলার কলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বাহাদুরপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে অংশ নেওয়া ৫১ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুবিধ কুমার মৈত্র বলেন, শতভাগ অকৃতকার্যের ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের জবাবদিহি বাড়ানো, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক কার্যক্রম চালু করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, মোবাইল ফোনের আসক্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যরা সচেতন না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বড়াইগ্রামের অভিভাবক আনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তা না হলে গ্রামের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় এগিয়ে যেতে পারবে না। এমপিওভুক্ত কুমারখালী দাখিল মাদ্রাসা থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে না পারা দুঃখজনক।
কুমারখালী দাখিল মাদ্রাসার সুপার আহমাদুল্লাহ বলেন, ১৯৯৩ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। এরপর থেকে এমন ফলাফল বিপর্যয় আর কোনো বছর হয়নি। গত বছর ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জন পাস করেছিল। এবারের ফলাফলে তাঁরা হতাশ।
শোকজের বিষয়ে তিনি বলেন, পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোস্তম আলী হেলালী বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাঁদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর কেন এমন ফলাফল হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচনী পরীক্ষার খাতা যাচাই করা হবে। সেখানে আশানুরূপ ফল না পেলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদেরও শোকজ করা হবে।
জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নাটোরে এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত ২৮৭টি স্কুল ও স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৭৮টি দাখিল মাদ্রাসা এবং ৬১টি কারিগরি স্কুল ও কলেজের মোট ২১ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ হাজার ৬১৯ জন।