ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

গ্যাসের লিকেজে আগুন, শেষ হয়ে গেল পুরো পরিবার

গ্যাসের লিকেজে আগুন, শেষ হয়ে গেল পুরো পরিবার
×

ছবি-সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:৪৭

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুন ও বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে স্ত্রী ও ছেলের মৃত্যুর পর মারা গেলেন মাইদুল ইসলাম (২৮)। মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় পরিবারের তিন সদস্যই মারা গেলেন।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান মাইদুলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মাইদুলের শ্বাসনালীসহ শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

এর আগে শনিবার দুপুরে মারা যায় মাইদুলের আট বছরের ছেলে মারুফ। পরদিন সোমবার সকালে মারা যান তাঁর স্ত্রী বিউটি আক্তার (২৪)। দুর্ঘটনায় বিউটির শরীরের ৮০ শতাংশ এবং মারুফের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

গত শুক্রবার ভোরে বন্দরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুড়িপাড়ার চাপাতলী এলাকায় সালাউদ্দিনের টিনশেড বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাড়িটির একটি কক্ষে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন মাইদুল। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে ঘরের ভেতর গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটে। জানালা বন্ধ থাকায় গ্যাস বের হতে পারেনি। ভোরে মাইদুল সিগারেট ধরানোর সময় জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মাইদুল, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় টিনশেড ঘরটির ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যায় এবং পুড়ে যায়। ঘরের সিলিং, লেপসহ বিভিন্ন আসবাব ও জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের তাপে সিলিং ফ্যানের পাখাও বেঁকে যায়।

মাইদুলের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গ্যাসের লিকেজ থেকে সৃষ্ট ওই বিস্ফোরণে একই পরিবারের আর কেউ জীবিত রইলেন না।

আরও পড়ুন

×