ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

বিয়ের ১৯ বছর পর ছেলের সঙ্গে এসএসসি, মা-ছেলে দুজনেরই জিপিএ-৫

বিয়ের ১৯ বছর পর ছেলের সঙ্গে এসএসসি, মা-ছেলে দুজনেরই জিপিএ-৫
×

সাদিয়া বেগম ও তার ছেলে তানভীর আহমেদ

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:২৪

ছেলের পাশে বসে পড়তেন মা। সংসারের কাজ, দুই সন্তানের দেখভালের পাশাপাশি নিজের পড়াশোনার জন্যও সময় বের করতেন সাদিয়া বেগম। বিয়ের ১৯ বছর পর এবার ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। মা-ছেলে দুজনই পেয়েছেন জিপিএ-৫।

রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানার বসিলা এলাকার বাসিন্দা সাদিয়া বেগম ও তার ছেলে তানভীর আহমেদ। সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তাদের বাড়িতে বইছে আনন্দের জোয়ার। স্বজন ও পরিচিতজনেরা তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

সাদিয়ার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন পুলিশ সদস্য। বিয়ের পর সংসার ও পারিবারিক নানা দায়িত্বের কারণে সাদিয়ার পড়াশোনা থেমে যায়। প্রায় ১৭ বছর বই-খাতা থেকে দূরে ছিলেন তিনি। তবে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কখনো হারাননি।

একসময় নতুন করে পড়াশোনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন সাদিয়া। সংসার সামলানোর পাশাপাশি দুই ছেলের পড়াশোনার খোঁজ রাখতেন। এর ফাঁকেই নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যান। প্রায় দুই বছর আগে ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় সংসারের কাজের ফাঁকে চলতে থাকে মা-ছেলের পড়াশোনা। ছেলের পড়াশোনার দেখভালের পাশাপাশি তার পাশে বসেই নিজের পড়াশোনা করতেন সাদিয়া।

চলতি বছরের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় রাজপাড়া আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে অংশ নেন সাদিয়া। তিনি জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তার ছেলে তানভীর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

সাদিয়া বেগম বলেন, ‘পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ থাকলেও বিয়ের পর নানা কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। কিন্তু হাল ছাড়িনি। দুই বছর আগে ছেলের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। পরিবারের সম্মতিতে এ বছর ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিই।’

তিনি বলেন, ‘সংসার সামলানো ও দুই ছেলের পড়াশোনার খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাও করেছি। ছেলের পাশে বসে পড়েছি। এই পরিশ্রমের ফল হিসেবে আমি জিপিএ-৫ পেয়েছি, ছেলেও জিপিএ-৫ পেয়েছে। এতে পুরো পরিবার আনন্দিত।’

ছেলে তানভীর আহমেদ বলেন, ‘আমি নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করি। মায়ের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই জিপিএ-৫ পেয়েছি। মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ কয়জনের হয়! আমি সেই সৌভাগ্যবান।’

মা-ছেলের এই সাফল্যে খুশি তাদের গৃহশিক্ষক আরিফুল ইসলামও। তিনি বলেন, চার বছর ধরে তানভীরকে ইংরেজি পড়াচ্ছেন। পাশাপাশি সাদিয়া বেগমকেও পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছেন। মা-ছেলে দুজনের এমন সাফল্যে তিনি আনন্দিত।

আরও পড়ুন

×