ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

লন্ডনে আনন্দধারা আর্টসের ‘বর্ষণ মন্দ্রিত’ সন্ধ্যা

লন্ডনে আনন্দধারা আর্টসের ‘বর্ষণ মন্দ্রিত’ সন্ধ্যা
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:১০

রবীন্দ্রনাথের গান, কবিতা ও নৃত্যে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হলো ‘বর্ষণ মন্দ্রিত’ শীর্ষক মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান। আনন্দধারা আর্টসের উদ্যোগে ৮ আগস্ট পূর্ব লন্ডনের ড্রাইভ মেথডিস্ট চার্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সূচনা হয় বাইশে শ্রাবণ উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে।

‘বর্ষণ মন্দ্রিত’-এর মূল ভাবনা ছিল রবীন্দ্রনাথের ‘বর্ষামঙ্গল’-এর ঐতিহ্যকে ধারণ করে সংগীত, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে বর্ষাকে উদ্‌যাপন করা এবং প্রকৃতি-মানুষের আবেগের গভীর সম্পর্ককে তুলে ধরা।

বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী সমর সাহা পরিবেশন করেন কাজী নজরুল ইসলামের হৃদয়স্পর্শী কবিতা ‘রবিহারা’, যা ১৯৪১ সালে রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণের পর নজরুল রচনা করেছিলেন।

দেবপ্রিয়া সরকারের অনবদ্য সেতার পরিবেশনায় বর্ষার গানের পর্বের সূচনা হয়। এর পর অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশু-কিশোর শিল্পীদের বিশেষ পরিবেশনা। জনপ্রিয় দুটি রবীন্দ্রসংগীত—‘নম নম করুনাঘন’ এবং ‘রিমঝিম ঘন ঘন রে’এর একটি সুন্দর কোলাজ দিয়ে শুরু হয় এই পর্ব। এরপর শিশুশিল্পীরা বর্ষাকে কেন্দ্র করে ছয়টি রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করে। এর সঙ্গে ছিল কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য। 

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ড. আনন্দ গুপ্ত এবং ভারতের খ্যাতনামা অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী ড. দেবলীনা কুমারের যৌথ পরিবেশনা।

অনুষ্ঠানের মূল পরিবেশনায় আনন্দধারা আর্টসের শিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল নির্বাচিত ১৭টি গান ও কবিতার একটি বিশেষ আলেখ্য। সংগীত, কবিতা ও নৃত্যের সমন্বয়ে লন্ডনের মাটিতে যেন ফুটে উঠেছিল বাংলার বর্ষা—মনে করিয়ে দিয়েছিল বৃষ্টির শব্দ, ভেজা মাটির গন্ধ, বদলে যাওয়া প্রকৃতির রূপ এবং রবীন্দ্রসৃষ্টির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য স্মৃতি ও অনুভূতি।

একক পরিবেশনায় অংশ নেন উর্বী মধুরা, পূর্বা অধরা, বৃষ্টি সাহা, আর্থিকা সাহা, ইশিতা সাহা, জিয়াউর রহমান সাকলাইন, সমর সাহা এবং ইমতিয়াজ আহমেদ।

অনুষ্ঠানকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী মনিরুল ইসলাম মুকুলের নির্দেশনায় নৃত্য পরিবেশনা। নিহারিকা, মাটি, গঙ্গা, কথা ও শুভর অংশগ্রহণে মনোমুগ্ধকর এই নৃত্য পরিবেশনা বর্ষা উদ্‌যাপনে যোগ করে রং, ছন্দ ও গতিময়তা।

অনুষ্ঠানে আনন্দধারা আর্টসের পরিচালক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে লালন ও উদ্‌যাপন করা এবং সারা বিশ্বে মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি। বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতিতে প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সামঞ্জস্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সংগীতের মাধ্যমে আমরা সচেতনতা তৈরি করতে পারি এবং মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারি।’

শিল্পীদের সঙ্গে ছিলেন প্রতিভাবান বাদ্যযন্ত্র শিল্পী অমিত দে, মিলন বিশ্বাস, অনিরুদ্ধ মুখার্জি, অমি ইসলাম এবং ময়ুখজিৎ। তাঁদের অনবদ্য বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা পুরো অনুষ্ঠানকে করেছে আরও মনোমুগ্ধকর। 

অনুষ্ঠানে শব্দ সংযোজনা করেন খ্যাতনামা সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার আরাফাত কীর্তি। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল এআর টেলিভিশন নেটওয়ার্ক। মঞ্চসজ্জার দায়িত্বে ছিলেন গোলাম আখতার মুক্তা।

আরও পড়ুন

×