জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
ছবি-সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:৩০
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কার, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের লক্ষ্যে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও গবেষণা উদ্যোগ ‘সেন্টার ফর সোসাইটি অ্যান্ড কালচার’ (সিএসসি) আত্মপ্রকাশ করেছে।
গত ৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার উডব্রিজে ‘৩৬ জুলাই: ইগনিটেড ইন রেসিলিয়েন্স, ইউনাইটেড ফর দ্য ফিউচার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির প্রথম প্রকাশ্য কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও সাংস্কৃতিক জাগরণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সিএসসির উদ্যোগে জুলাই হাউস, BAND, SAVE Bangladesh, সোচ্চার ও দ্য বেঙ্গল কাউন্সিলের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানটি দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্বে আলোচনা ও প্যানেল আলোচনা এবং দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
আলোচনা পর্বে অংশ নেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, ‘জুলাই রেকর্ডস’-এর চেয়ারম্যান কাজী ওয়ালি উল্লাহ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ রাব্বির বোন মিম আক্তার, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব এবং ‘ডেইলি ওয়াদা’র সম্পাদক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাংলাদেশপন্থি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কাজী ওয়ালি উল্লাহ আন্দোলনের মৌখিক ইতিহাস সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। শহীদ রাব্বির বোন মিম আক্তার ভাইয়ের মরদেহ বহনের আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন এবং তৎকালীন সরকারের আমলে সংঘটিত নৃশংসতার দ্রুত বিচার দাবি করেন।
শফিকুল আলম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাংবাদিকদের জীবনঝুঁকি এবং তৎকালীন মূলধারার গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে নানা বাধার কথা তুলে ধরেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়ব প্রবাসী বাংলাদেশিদের মেধা ও দক্ষতাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়নে তাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের যাত্রায় তাঁর সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান। ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় প্রবাসীদের আন্দোলন সংগঠনে নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীকে শহীদদের নামসংবলিত বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রদূতের পক্ষে তাঁর স্ত্রী তামান্না তাহসিন সম্মাননা গ্রহণ করেন।
এ ছাড়া ড. নুসরত রহমান, মুনিবা ফখরুল ও শাফকাত রাব্বির অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, জনমত গঠন এবং দাবি আদায়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বক্তব্য দেন সিএসসির বোর্ড ডিরেক্টর মুনা হাফসা এবং প্রধান সদস্য রেদওয়ান হোসেন তালুকদার। তারা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ সাংস্কৃতিক উদ্যোগের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। দেশের রাজধানীর বাইরের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে শুরু করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও সাংস্কৃতিক জাগরণ ছড়িয়ে দেওয়া এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন গান, কবিতা ও নাটক পরিবেশন করা হয়। কনসার্টের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন রক সংগীতশিল্পী জন কবির। তাঁর পরিবেশনায় মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শকেরা সম্মিলিতভাবে গানে অংশ নেন।
ওহাইওভিত্তিক ব্যান্ড ‘কম্পিউটেশনাল ফ্লুইড রক’ (সিএফআর) এর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয়। এতে সিএসসির সদস্য শেখ আহমেদ সাকিব কিবোর্ড ও ভোকালিস্ট হিসেবে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ‘মুক্তির মন্দির’, ‘৩৬ জুলাই’, জেমসের ‘বাংলাদেশ’ এবং ‘কাকতালের ওই মা তোর পোলা মরে নাই’সহ বিভিন্ন গান পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কবিতা আবৃত্তি ও একটি সংক্ষিপ্ত নাটক মঞ্চস্থ করা হয়।
অনুষ্ঠানস্থলে মূল আয়োজনের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক প্রদর্শনী ও মেলার আয়োজন করা হয়। সেখানে বাংলাদেশ থেকে আনা জুলাই আন্দোলনবিষয়ক বিভিন্ন বই প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। শিল্পী দেবাশীষ চক্রবর্তীর অনুমতি নিয়ে তাঁর আঁকা জুলাই আন্দোলনের নির্বাচিত কিছু পোস্টার পুনর্মুদ্রণ করে বিক্রিরও ব্যবস্থা করা হয়।
আয়োজকদের ভাষ্য, প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, সাংস্কৃতিক স্মৃতি ও রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও বিস্তৃত করাই সিএসসির অন্যতম লক্ষ্য।
- বিষয় :
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান