‘ধর্মের অপব্যাখ্যা নয়, সম্প্রীতির শিক্ষাই ইসলামের প্রকৃত পরিচয়’
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ২০:০৪
ধর্মকে ব্যবহার করে উগ্রবাদ, সন্ত্রাস ও ঘৃণার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই বলে মন্তব্য করেছেন ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী। তিনি বলেছেন, ইসলাম মানুষে মানুষে ভালোবাসা, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। এসব মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই উগ্রবাদ ও সহিংসতামুক্ত শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের সানাই কনভেনশন হলে ‘উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ-জাতি গঠনে সম্প্রীতির আলোকে সমাজ প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘ধর্মের অপব্যাখ্যা নয়, সম্প্রীতির শিক্ষাই ইসলামের প্রকৃত পরিচয়। যারা ধর্মকে ব্যবহার করে ঘৃণা, সহিংসতা ও বিভাজন সৃষ্টি করে, তারা ইসলামের শান্তি, দয়া ও মানবকল্যাণের আদর্শ থেকে বিচ্যুত। কোরআন ও সুন্নাহর প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে বিভক্ত নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ করে।’
তিনি বলেন, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস কোনো ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে না। সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, নৈতিকতা, সংলাপ ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সম্প্রীতি ও মানবতার আদর্শে গড়ে তুলতে ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাবিদ, সামাজিক সংগঠন এবং তরুণদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের (জেবিবিএ) সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস আহমেদ। তিনি বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশি সমাজের ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা সবার দায়িত্ব। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ ধারণ করেই উগ্রবাদমুক্ত, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
আরেক বিশেষ অতিথি মোহাম্মদ আতিকুল্লাহ্ বলেন, চরমপন্থা ও সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটির মধ্যে সমন্বিত সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। সামাজিক সম্প্রীতিই টেকসই শান্তির ভিত্তি।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খলিফা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, মোহাম্মদ কোরবান আলী, আক্কাস মিয়া, সেতু মিয়া, সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রানা তালুকদার, সাইদুল আলম সুজন, মোহাম্মদ জালাল তালুকদার, মোহাম্মদ মানিক, মোহাম্মদ হিরুসহ বিভিন্ন কমিউনিটি নেতা।
বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে উগ্রবাদ, ঘৃণা, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সামাজিক বিভাজনের বিরুদ্ধে মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তোলা সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে ধর্মীয় নেতা, নাগরিক সমাজ ও প্রবাসী কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা সভা শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি এবং সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী।