মহাসড়কের বিষফোড়া আমতলীর খানাখন্দ, বৃষ্টি হলেই যানজট
যানজটে স্থবির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় কুমিল্লার ময়নামতি এলাকায় সমকাল
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩১ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৪৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ময়নামতি-আমতলী এলাকায় খানাখন্দে ভরা। ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতে পানি জমে যাওয়ায় যানজট লেগে যায়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
তবে সড়ক মেরামত তদারকি প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কাছে সড়ক সংস্কারে আপাতত কোনো সুখবর নেই। ইট-বালু দিয়ে জরুরি মেরামতে সড়ক সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও বৃষ্টির কারণে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন চালকরা। গত সোমবার রাতে ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টির কারণে শুরু হওয়া থেমে থেমে যানজট গতকাল মঙ্গলবারও দিনভর ভোগান্তিতে ফেলে যাত্রীদের।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ময়নামতি-আমতলী এলাকায় মহাসড়কের খানাখন্দে সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ধীরগতির সংস্কার কাজ এবং বৃষ্টির কারণে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। গত সোমবার রাতে অতিবৃষ্টির কারণে সড়কের ভাঙা অংশে পানি জমে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। সর্বশেষ গত সোমবার রাত ৯টার দিকে অতিবৃষ্টির কারণে ভাঙা সড়কে পানি জমে রাতভর যানবাহনের জটলা ছিল। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর এই সড়কের যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।
তবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানায়, ময়নামতি সংলগ্ন আমতলী এলাকায় প্রায় আধাকিলোমিটার জরুরি সংস্কার কাজ করে সড়ক সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত শেষ হলে সড়কে স্থায়ী মেরামত করা হবে। বেশি বৃষ্টিতে মাঝে মধ্যে সড়কের খানাখন্দে যানবাহন আটকে যায়।
কুমিল্লা থেকে বাসে করে ঢাকায় যাওয়া একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন সরকার সমকালকে বলেন, শাসনগাছা থেকে সকালে ঢাকার বাসে রওনা দিয়ে ময়নামতি আসতে স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ১০ মিনিট লাগে, সেখানে গতকাল মঙ্গলবার এক ঘণ্টা লেগেছে।
কলেজ শিক্ষক সফিকুল ইসলাম সরকার জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ময়নামতি থেকে কুমিল্লা নগরীতে আসতে দেড়ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে।
হাইওয়ে ময়নামতি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, সোমবার রাতে বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে যানজট দেখা দেয়। সারারাত আমরা রাস্তায় ছিলাম। দিনভর ধীর গতিতে যানবাহন চলছে। ভাঙা সড়ক মেরামত না করা পর্যন্ত যাত্রীদের এমন ভোগান্তি হয়তো কমবে না।
সড়ক ও জনপথের (গৌরীপুর) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ভূঁঞা সমকালকে বলেন, বৃষ্টির কারণে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পানি জমে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে ও যানজট দেখা দেয়। জরুরি মেরামত করে সড়ক সচল রাখার চেষ্টা করছেন তারা। সড়কটি স্থায়ীভাবে নতুন করে ঢালাই করতে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। শিগগিরই বরাদ্দ আসবে এবং বৃষ্টিপাত কমে এলে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা তাঁর।