ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খানা-খন্দের সড়কে বিচ্ছিন্ন নূরনগর-শবদলপাড়া

খানা-খন্দের সড়কে বিচ্ছিন্ন নূরনগর-শবদলপাড়া
×

আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের নূরনগর-২ শবদলপাড়া গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন সমকাল

 আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের নূরনগর-২ শবদলপাড়া গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় মহাদুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ৫০টি পরিবারের মানুষ। বছরের বেশির ভাগ সময় কোনো রকমে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলেই সড়কটি কাদা ও পানিতে তলিয়ে গিয়ে প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বয়স্করা।

স্থানীয়রা জানান, শবদলপাড়া গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ এই সড়ক। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর ও বিভিন্ন পেশার মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কাদায় পরিণত হয়। তখন মোটরসাইকেল, অটোরিকশা কিংবা ভ্যান দূরের কথা, হেঁটেও চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রায়ই কাদায় পিছলে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
গ্রামের কৃষকদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে মাঠের ধান, আলু ও অন্যান্য মৌসুমি ফসল বাজারে নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় মাথায় বা হাতে করে অনেক দূর পর্যন্ত কৃষিপণ্য বহন করতে হয়। এতে সময়মতো বাজারে পণ্য পৌঁছাতে না পারায় আর্থিক ক্ষতিরও মুখে পড়ছেন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর দুর্ভোগ নিয়েই বসবাস করতে হচ্ছে।

গ্রামের বাসিন্দা রিনা পারভীন বলেন, ‘এই সড়কটির জন্য আমরা অনেকবার স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের কাছেও আবেদন করেছি। কোনো কাজ হয়নি। বৃষ্টি হলে ঘর থেকে বের হওয়াটাই কষ্টকর হয়ে যায়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।’
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘এই একটি সড়কের ওপর পুরো গ্রামের মানুষ নির্ভরশীল। শিক্ষার্থী থেকে কৃষক, রোগী–সবাইকে এই পথেই চলতে হয়। নিজেদের টাকায় কয়েকবার মাটি ফেলে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেই মাটি ধুয়ে যায়। স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই দুর্ভোগ কমবে না।’
এ বিষয়ে তিলকপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদশা আলম বলেন, ‘সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত উন্নয়নকাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে।’
তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ পিন্টু বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এটি উন্নয়নকাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটির সংস্কার শুরু করা হবে।’

আরও পড়ুন

×