ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরফ সংকটে মৎস্যকেন্দ্রে আটকা শত শত ট্রলার

বরফ সংকটে মৎস্যকেন্দ্রে আটকা শত শত ট্রলার
×

বরফ সংকটে পটুয়াখালীর মহিপুর-আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আটকা পাঁচ শতাধিক মাছ ধরার ট্রলার। সম্প্রতি তোলা সমকাল

মুফতী সালাহউদ্দিন, পটুয়াখালী ও আসাদুজ্জামান মিরাজ, কুয়াকাটা

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘এমনিতেই গাঙে ইলিশ নাই। তার ওপর বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বরফ উৎপাদন বন্ধ। চারদিন বরফ ধরাতে পারি নাই। মাসে ১০ লাখ টেকা বিদ্যুৎ বিল আসে। কিন্তু এই মাসে ২০ লাখ টেকা ছাইড়া যাইব। তারপরও বরফ উৎপাদন করতে পারি না। বরফ না থাকায় কেউ ইলিশও কিনতে চায় না। গাঙে থেকে মহিপুরে আইছি এক সপ্তাহের উপরে হইয়্যা গ্যাছে। কিন্তু বরফ লইয়্যা অ্যাহোনও গাঙে ইলিশ শিকারে যাইতে পারে নাই জেলেরা।’

গতকাল বুধবার সকালে কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর মহিপুর-আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ফয়সাল আইসপ্লান্টের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর হোসেন। 

মহিপুর-আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মৎস্যজীবী ও বরফকল ব্যবসায়ীদের এখন করুণ দশা। বরফের অভাবে জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না। 
একই এলাকার জননী আইস প্লান্টের স্বত্বাধিকারী কবির হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে বরফ হবে না। বরফ না থাকলে জেলেরা সাগরে মাছ শিকারে যাইতে পারবে না। গাঙে না যাইতে পারলে মাছ পাবে না। আর মাছ না পাইলে ব্যবসা বন্ধ। দৈনিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। বউ-পোলাপান লইয়্যা না খাইয়্যা থাহোন লাগবো। এক বিদ্যুতের জন্য কত সমস্যা ও সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ, বরফের কোনো বিকল্প নাই, মৎস্য ব্যবসায় বরফ লাগবোই। বরফ না দিলে মাছে পচন ধরবে।
মহিপুর-আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ট্রলার মালিক রেজাউল মাতুব্বর বলেন, লোডশেডিংয়ে আমাগো ব্যবসা লাটে উঠছে। আইজ চার দিন অপেক্ষা কইর‍্যা বরফের অভাবে গাঙে যাইতে পারি নাই। কবে যাইতে পারমু হেডাও কইতে পারি না।

ট্রলার মালিক আইয়ুব দফাদার বলেন, মাছের ব্যবসা চলে বরফের ওপর নির্ভর করে। সাগর থেইক্যা ইলিশ লইয়্যা আইজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় মহিপুর আইছি। কিন্তু বরফ নাই। সাড়ে তিন লাখ টাকার ইলিশ আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি কইর‍্যা দিছি। 
পটুয়াখালী শহরের নিশাদ আইস প্লান্টের ব্যবস্থাপক নুরুল রহমান সুজন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। এক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে। তাহলে কীভাবে বরফ উৎপাদন করব?
এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। এ সময় নদী ও সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও বরফ ব্যবস্যায়ী সবাই খুশি থাকেন। কিন্তু ইলিশের ভরা মৌসুমেও শুধু বরফের অভাবে সাগরে যেতে পারছেন না জেলেরা। বরফ যা-ও পাওয়া যায়, তা খুব কম। 

বরফের তীব্র সংকটের ফলে ইলিশের ভরা মৌসুমেও হাজার হাজার জেলে কয়েকশ ট্রলার নিয়ে মহিপুর-আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আটকা পড়েছেন। 
মহিপুর-আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রাজু আহমেদ রাজ বলেন, বরফের অভাবে মৎস্য ব্যবসায় ধস, বেচাকেনা বন্ধ। বরফ না থাকলে ব্যবসা চলবে না। বরফ সংকটের কারণে বর্তমানে পাঁচ শতাধিক ফিশিং ট্রলার মহিপুর-আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আটকা পড়েছে। 
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম আবুল কাশেম জানান, পটুয়াখালীর দুটি গ্রিডে ১০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে এবং পাওয়া যাচ্ছে ৫৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে কলাপাড়া, কুয়াকাটা, আমতলী ও তালতলী নিয়ে পায়রা গ্রিডে ৪৪ মেগাওয়াট চাহিদার মধ্যে সরবরাহ হচ্ছে ২৩ মেগাওয়াট। ঘাটতি রয়েছে ২১ মেগাওয়াট। বাউফল, গলাচিপা, দশমিনা, মির্জাগঞ্জ, দুমকী ও সদর উপজেলা নিয়ে পটুয়াখালী গ্রিডের ৬২ মেগাওয়াট চাহিদার মধ্যে সরবরাহ হচ্ছে ৩৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এই কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×