ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনায় যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

খুলনায় যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৬

খুলনার রূপসা উপজেলায় ফখরুল শেখ (৩৫) নামে এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার রাতে নৈহাটি ইউনিয়নের কিসমত খুলনা গ্রামের মেসার্স রূপসা ব্রিকসের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে সিলেট নগরের একটি বাসা থেকে বৃদ্ধ দম্পতি ও গৃহপরিচারিকার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় নিজের দুই শিশুসন্তানকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

যুবদল কর্মী খুন
খুলনার রূপসা উপজেলায় নিহত ফখরুল শেখ নৈহাটি গ্রামের মমিন উদ্দিনের ছেলে। তিনি রূপসা কলেজে ছাত্রদল এবং বর্তমানে যুবদলের কর্মী হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 

ফখরুলের ভাই যুবদল নেতা ফরহাদ হোসেন বলেন, মেসার্স রূপসা ব্রিকস তাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। ভাটার নিরাপত্তার জন্য ফখরুল মাঝেমধ্যে রাতে থাকতেন। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে কয়েক দুর্বৃত্ত সেখানে গিয়ে তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে ভাটায় গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্বজনরা। কিছু সময় পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

গতকাল বুধবার রূপসা থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক মীর বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে।

বাসায় তিনজনের গলাকাটা মরদেহ
সিলেট নগরের একটি বাসা থেকে স্বামী, স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে নগরের রায়নগর  রাজবাড়ী এলাকার ১১১ নিকুঞ্জ ভিলার দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যায় বাবুল মিয়া নামে এক রংমিস্ত্রিকে আটক করা হয়ছে। পুলিশ বলছে, তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

নিহতরা হলেন– আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৫) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা আক্তার (১৫)। আব্দুস সাত্তারের বাড়ি বিয়ানীবাজারের আখাকাজনা গ্রামে। তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে রাজবাড়ী এলাকায় বসবাস করছিলেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এবং দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন।

এসএমপির কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, বাবুল রংমিস্ত্রি। রায়নগর এলকার একটি কলোনিতে থাকেন তিনি। তাঁর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর। আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে কাজ করার সুবাদে তাহমিনার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গতকাল সকাল ৯টার দিকে বাবুল ওই বাড়ি গেলে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ছুরি দিয়ে মেয়েটিকে আঘাত করেন বাবুল। তাহমিনার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করেন। এরপর আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাঁকেও একইভাবে হত্যা করে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বাবুল।

দুই শিশুসন্তানকে হত্যা
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে নিজের দুই শিশুসন্তানকে হাওরে ফেলে হত্যার অভিযোগে কামরুল হাসান (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার হাওরের পৃথক স্থান থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে গতকাল দুপুরে কামরুলকে আটক করে পুলিশ। তাঁর বাড়ি দিরাই উপজেলার পেরুয়া মধুপুর গ্রামে। হত্যার শিকার শিশুরা হলো– ৬ বছরের মুহাদ্দিস ও সাড়ে ৩ বছরের তুলনা আক্তার।

আটকের পর পুলিশকে কামরুল জানান, গত শুক্রবার পারিবারিক কলহের জের ধরে তাঁর স্ত্রী আফরোজা বেগম তাঁর সন্তানদের মারধর করেন। এ নিয়ে আফরোজাকে বকাঝকা করেন কামরুলের মা। সেখানে দুজনের মধ্য ঝগড়া হয়। পরে দুই সন্তান নিয়ে সিলেটে চলে যান কামরুল। গত রোববার সন্ধ্যায় দিরাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে সন্তানদের পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। রাত সাড়ে ৮টায় শান্তিগঞ্জের ডাবর এলাকায় ঘুমন্ত তুলনাকে দেখার হাওরে ফেলে দেন কামরুল। এরপর দিরাই সড়ক মোড় পার হয়ে মুহাদ্দিসকেও একই হাওরে ফেলে দেন।

মঙ্গলবার বিকেলে তুলনার এবং গতকাল দুপুরে মুহাদ্দিসের মরদেহ উদ্ধারের পর কামরুলকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর মরদেহ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে একটি মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষ থেকে হুসাইন কাজী (১২) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার পশ্চিম গোপীনাথপুরের দারুল উলুম শুভম কওমি মাদ্রাসা, এতিমখানা ও কিন্ডারগার্টেন থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

হুসাইন উপজেলার বহুগ্রাম ইউনিয়নের বলনারায়ণ গ্রামের পলাশ কাজীর ছেলে। সে ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র ছিল। মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার আসরের নামাজের পর হুসাইনের এক অভিভাবক তাঁর কাপড় নিতে দ্বিতীয় তলার ৬ নম্বর কক্ষে যান। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে তিনি জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে হুসাইনকে জানালার গ্রিলের পাশে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পান।
(সংশ্লিষ্ট ব্যুরো ও প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য)

আরও পড়ুন

×