হিমালয়ের উদ্দেশে সাইকেলে কক্সবাজার ছাড়লেন বীর কুমার
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ২২:০৭
কক্সবাজার থেকে সাইকেলে নেপালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াজ্ঞা ইউনিয়নের তরুণ অভিযাত্রী ও সাইক্লিস্ট বীর কুমার তনচংগ্যা। রোববার সকাল ৮টা ৩৯ মিনিটে কক্সবাজার কবিতা চত্বর বিচ থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের মধ্য দিয়ে তাঁর ‘সি টু হিমালয়াস’ অভিযানের যাত্রা শুরু হয়।
এই অভিযানের মাধ্যমে কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেলে স্থলপথ পাড়ি দিয়ে নেপালে পৌঁছে চারটি দুর্গম ও চ্যালেঞ্জিং ট্রেইল মানাসলু সার্কিট, অন্নপূর্ণা সার্কিট, অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প ও এভারেস্ট বেস ক্যাম্প অতিক্রম করার লক্ষ্য স্থির করেছেন বীর কুমার। অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা বহন করবেন তিনি।
বীর কুমারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে যাত্রা করে প্রথমে ঢাকা এরপর পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি হয়ে নেপাল সীমান্তে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বীর কুমার তনচংগ্যা জানান, সাধারণত বাংলাদেশি অভিযাত্রীরা বিমানে নেপাল গিয়ে সেখান থেকে সাইকেল অভিযান শুরু করেন। কিন্তু তিনি ব্যতিক্রমীভাবে বাংলাদেশের সমুদ্রপৃষ্ঠ কক্সবাজার থেকে সাইকেলে স্থলপথে নেপাল পৌঁছে পুরো অভিযান সম্পন্ন করতে চান। তাঁর এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং দেশের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের সম্ভাবনাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা।
অভিযানের প্রস্তুতিতে দেশের পরিচিত সাইক্লিস্ট রাকিবুল ইসলাম এবং পর্বতারোহী বাবর আলীর সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন বীর কুমার।
তিনি বলেন, এই অভিযান শুধু ব্যক্তিগত স্বপ্ন পূরণের জন্য নয়; বরং বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের সক্ষমতা, সৌন্দর্য ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার একটি প্রয়াস। একই সঙ্গে দেশের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করাও তাঁর অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রসঙ্গত, বীর কুমার তনচংগ্যা এর আগে সাইকেলে ভারতের ১০টি রাজ্য ভ্রমণ করেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে প্রায় ৭১ দিনে পাঁচ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২০২৪ সালের মার্চে দেশে ফেরেন তিনি। এ ছাড়া বাংলাদেশের দীর্ঘতম ক্রস-কান্ট্রি রুট টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এবং দেশের ৬৪টি জেলা সাইকেলে পরিভ্রমণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।