ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লার তিতাস

সেতুর মাঝে গর্ত, পাটাতন ফেলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

সেতুর মাঝে গর্ত, পাটাতন ফেলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল
×

বাতাকান্দি বাজার-মোহনপুর সড়কের গাবতলী সেতুর ভাঙা অংশে পাটাতন ফেলে চলাচল। ছবি: সমকাল

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২৯

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি বাজার-মোহনপুর সড়কের গাবতলী সেতুর মাঝের অংশ ভেঙে গর্ত তৈরি হয়েছে। গর্তের ওপর স্টিলের দুটি পাটাতন ফেলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি বাজার থেকে দুধকাটা-মোহনপুর হয়ে দাউদকান্দি বাহারচর পর্যন্ত সাড়ে ১৪ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এই সড়কটি ব্যবহার করে তিতাস উপজেলার দুই ইউনিয়নের ২২ গ্রামের মানুষ দাউদকান্দি হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করে। দাউদকান্দি উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ সিলেট ও বাতাকান্দি বাজারে আসে। এই সড়কের গাবতলী সেতুর মাঝের অংশ ভেঙে বড় গর্ত হওয়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, গাবতলী সেতুর মাঝের অংশ ভেঙে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তের ওপর দেওয়া দুটি স্টিলের পাটাতন সঠিক অবস্থানে নেই। যানবাহন চলাচলের সময় পাটাতনগুলো নড়াচড়া করছে। ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন সেতুটি পার হচ্ছে। সেতুটির রেলিংও ভেঙে গেছে। পথচারীদেরও চলাচল করতে হচ্ছে ভয়ে ভয়ে। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও নেই কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড। প্রতিদিন এখানে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই স্থায়ীভাবে সংস্কার করা জরুরি।

গাবতলী গ্রামের সহিদ মিয়া জানান, রাতে কিংবা বৃষ্টির সময় গাবতলী সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। দ্রুত সেতুটি সংস্কার করা না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে।

অটোরিকশাচালক রফিক মিয়া বলেন, ‘এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করার সময় ভয়ে থাকি কখন যেন গর্তে পড়ে যাই। এই জায়গাটি পার হতে আতঙ্কে থাকি।’

ভূঁইয়ার বাজারের ব্যবসায়ী সফিক মিয়া জানান, বড় ট্রাকে পণ্য পরিবহন করতে পারছেন না তারা। বিকল্প পথে পণ্য আনার কারণে খরচ অনেক বেশি পড়ছে।

কালিবাজার গ্রামের শিক্ষক আশরাফ হোসেন বলেন, এটি তাদের চলাচলের একমাত্র সড়ক। এই সড়ক দিয়ে উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন তারা। এক বছরের বেশি সময় সেতুটির মাঝের অংশ ভেঙে গর্ত হয়েছে। রেলিংও ভেঙে আছে। এখান দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে যাতায়াত করতেও কষ্ট হয়। ভয় লাগে কখন যেন দুর্ঘটনা ঘটে।

সাতানি গ্রামের শফিক মিয়া জানান, তাঁর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে নিয়ে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার সময় সেতুর ওপরে অটোরিকশা উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এই এলাকার বেশির ভাগ গ্রামের দুর্ভোগের কারণ এখন এই সেতু। দ্রুত সেতুটি সংস্কারে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তিতাস উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, বাতাকান্দি বাজার-মোহনপুর সড়কটি উপজেলার মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কের গাবতলী সেতুর ভাঙা অংশ জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হবে।

আরও পড়ুন

×