ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেতু ও সড়কবিহীন ‘নবীন’ গ্রাম ৪০০ পরিবারের ভোগান্তি

সেতু ও সড়কবিহীন ‘নবীন’ গ্রাম ৪০০ পরিবারের ভোগান্তি
×

চাটমোহরের হান্ডিয়াল ইউনিয়নের নবীন গ্রামে যোগাযোগের সড়ক না থাকায় নৌকাই ভরসা। ছবি: সমকাল

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ১১:১৪

নামে ‘নবীন’, কিন্তু উন্নয়নের ছোঁয়া নেই। পাবনার চলনবিল অধ্যুষিত চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত নবীন গ্রামটি আজও সড়ক ও সেতুবিহীন। বর্ষায় চারদিকে থইথই পানি, শুকনো মৌসুমে কাদামাটির পথই ভরসা। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বিদ্যুৎ ছাড়া আধুনিক কোনো নাগরিক সুবিধা পৌঁছায়নি গ্রামটিতে। এতে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে প্রায় ৪০০ পরিবারের।

স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠা এ গ্রামে এখনও কোনো পাকা সড়ক, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা নিয়মিত যানবাহনের ব্যবস্থা নেই। পুরো গ্রামে মাত্র একটি ঘোড়ার গাড়ি রয়েছে, যা অসুস্থ রোগী বা মালামাল পরিবহনের একমাত্র ভরসা। যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে অনেকেই এ গ্রামে বিয়ে দিতেও অনাগ্রহী।

সরেজমিন দেখা যায়, বিশাল জলরাশির মধ্যে দ্বীপের মতো দাঁড়িয়ে আছে নবীণ গ্রাম। ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বর্ষায় নৌকায় এবং শুকনো মৌসুমে কাদা-মাটির পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যায়। গ্রামে ‘ভায়রা বাজার’ নামে একটি ছোট বাজার থাকলেও সেখানে তিনটি চায়ের দোকান ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য কিনতে বর্ষাকালে নৌকায় করে ছাইকোলা বা হান্ডিয়াল বাজারে যেতে হয়।

গ্রামে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় জরুরি রোগীদের নৌকায় করে ছাইকোলা বা হান্ডিয়াল, সেখান থেকে প্রায় ১৫-১৬ কিলোমিটার দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হয়। স্থানীয়দের দাবি, চিকিৎসার অভাবে অতীতে কয়েকজন প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

কৃষিপ্রধান এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। তবে সড়ক যোগাযোগ না থাকায় উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারেন না কৃষকরা। ফলে ফড়িয়াদের কাছে কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন।

কৃষক হাসেম আলী বলেন, ‘বর্ষায় নৌকা আর শুকনো মৌসুমে কাদা-মাটির পথই ভরসা। ভোটের সময় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি মিললেও পরে আর কেউ খোঁজ নেয় না। যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় ফসলের ন্যায্যমূল্যও পাই না।’ ইন্তাজ আলী প্রামাণিক বলেন, ‘গ্রামের অবস্থা দেখে অনেকেই বিয়ে দিতে চান না। একটি সেতু ও সাবমারসিবল সড়ক নির্মাণ হলে আমাদের দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগ দূর হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, ‘নবীণ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কীভাবে তাদের যোগাযোগ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।’

আরও পড়ুন

×