ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছোট নালায় মুক্তি মিলবে পাঁচ হাজার একর জমির

ছোট নালায় মুক্তি মিলবে পাঁচ হাজার একর জমির
×

জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা কাটার উদ্বোধন

দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৬ | আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদ। উত্তরে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের খুঠারচর, সরদারপাড়া, পূর্ববাহাদুরাবাদ, নাজিরপুর ও ঝালরচর। গ্রামগুলোর অন্তত পাঁচ হাজার একর জমি বর্ষা থেকে শরতের শেষ পর্যন্ত সময় দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ থাকে। জমিগুলোতে বছরে শুধু রবি মৌসুমে ফসলের চাষ হয়। শরৎ হেমন্তে ঘরে তোলা খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন বা অন্য ফসলের চাষ হয় না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কয়েক হাজার কৃষক। 

জলাবদ্ধতার এই সমস্যা দূর করে জমিগুলোকে বছরে দুই বা ততোধিক ফসল চাষের আওতায় আনতে খালের মতো নালা কেটে প্রবাহের পথ বের করে পানি অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে খুঠারচরের কাছে পোল্যাকান্দি এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের বামতীরে এ কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন।

উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, নালার দৈর্ঘ্য হবে ২৫০ মিটার ও প্রস্থ হবে ১০ ফুট এবং গভীরতা হবে ৫ ফুট। লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ের এ কাজের অর্থ জোগান আসবে উপজেলা প্রশাসনের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে। কাজটি সম্পন্ন করতে লাগবে তিন থেকে চার দিন। সূত্রটি জানায়, স্বল্প ব্যয়ে কঠিন সমস্যার সহজ সমাধানের প্রয়াস এটি।

স্থানীয়রা জানান, খুঠারচর, সরদারপাড়া, পূর্ববাহাদুরাবাদ, নাজিরপুর ও ঝালরচরের বিস্তীর্ণ এলাকা বর্ষা মৌসুম থেকে মধ্য শরৎ পর্যন্ত পানিতে ডুবে থাকে। এ জমিগুলোতে বছরে বোরো মৌসুমে একটি ফসলের চাষ হয়। তবে এখানকার মাটি বেলে দোআঁশ প্রকৃতির। মাটির গুণ বিচারে রোপা আমন মৌসুমে এখানে অল্প ব্যয়ে অধিক ফসল উৎপাদন হওয়ার কথা।  

জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা কাটার উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হাবীব পলিন, উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ খবিরুজ্জামান খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছাইমউদ্দিন, বাহাদুরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান মিয়া প্রমুখ। 

বাহাদুরাবাদ গ্রামের চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, সরদারপাড়া হয়ে উত্তরে ঝালরচর পর্যন্ত কয়েক হাজার একর জমি প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এ জমিগুলোতে রোপা আমন চাষ হয় না। উপজেলা প্রশাসন খালের মতো নালা কেটে এই জমিগুলোর পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করেছে। এতে আমার মতো শত শত চাষি উপকৃত হবেন। 

খুঠারচর গ্রামের বাসিন্দা নান্ডা মিয়া জানান, এ জমিতে বছরে একটি ফসলের চাষ হয়ে আসছে। বর্ষার শেষে রোপা আমন বা অন্য ফসলের চাষ এখানে হয় না। জলাবদ্ধ জমির পাশের জমিগুলোতে রোপা আমন ছাড়াও মৌসুমি সবজির চাষ হয়। জলাবদ্ধতা দূর হলে অর্ধপতিত জমিগুলো থেকে কৃষকেরা ব্যাপক লাভবান হবেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অঞ্চলের চাষিরা খুবই আনন্দিত। 

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা বলেন, বাহাদুরাবাদের জলাবদ্ধ জমি থেকে পানি নিষ্কাশন করা গেলে ওই জমিগুলোতে বছরে দুই বা ততোধিক ফসলের চাষ হবে। উপকৃত হবেন শত শত কৃষক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা দূর করে জমিগুলোকে সারা বছর ফসল চাষের উপযোগী করা যায়, হঠাৎ এই ধারণা মাথায় আসে। ধারণা অনুযায়ী আজ (গতকাল) এ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচ হাজার একর জমি সারা বছর ফসল চাষের আওতায় আসবে। 

আরও পড়ুন

×