ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড শুমারির দায়িত্বে ছাত্রলীগের নেতা

ফ্যামিলি কার্ড শুমারির  দায়িত্বে ছাত্রলীগের নেতা
×

ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা। গত রোববার রাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে এবং সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই নেতার নাম আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি চরমজলিশপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট সুপারভাইজার এবং ৪ আগস্ট তথ্য সংগ্রহকারী পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দুটি পদের বিপরীতে ছয় শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। পরে পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত তালিকায় ১৭৫ জনের নাম প্রকাশ করে প্রশাসন।

তালিকা প্রকাশের পরপরই ছাত্রলীগের পদধারী নেতা চূড়ান্ত ফলে স্থান পাওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ রাজনৈতিক পরিচয় ও পটভূমি যাচাই-বাছাই করা হয়নি।
ফেসবুকে আবুল বশর লেখেন, ‘যাচাই-বাছাই না করে যারা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা অন্যায় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।’ মোজাম্মেল হোসেন নামে একজন লেখেন, ‘এত বড় একটি মেগা প্রজেক্টে কীভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোক প্রবেশ করল? সোনাগাজীতে প্রকাশিত ফলে আরও অনেকের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার খবর দেখা যাচ্ছে, যা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।’ মাইনউদ্দিন রিমনসহ অনেকেই মন্তব্য করেন যে, যারা অতীতে এই কর্মসূচির বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন বহাল তবিয়তে তথ্য সংগ্রহকারী পদে ঢুকে পড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমি অন্য সবার মতো পরীক্ষা দিয়েছি। তবে তালিকায় নাম আসবে বা পাস করব, তা আগে ভাবিনি।’
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলু বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচির দায়িত্বে আনার ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা ও রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা অপরিহার্য। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট কেউ কীভাবে এমন দায়িত্ব পেল, তা দ্রুত খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারজান হোসাইন জানান, ‘সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে ১৭৫ জনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দু’একজনের বিষয়ে কিছু মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
 

আরও পড়ুন

×