ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রেশমের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নতুন উদ্যোগ

রেশমের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নতুন উদ্যোগ
×

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৪০

রেশমের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চীনের সহযোগিতায় গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রেশম উৎপাদন করে হারানো দিন ফেরাতে চীন-বাংলাদেশ কৌশলগত সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে রাজশাহীতে রেশম চাষ গবেষণা ও উন্নয়নবিষয়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে নগরীর বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সম্মেলনকক্ষে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। চীন-বাংলাদেশ রেশম গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ রেশম চাষ উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম। এই সম্মেলনে চীনের ঝেজিয়াং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ও ভাইস ডিন অধ্যাপক জু কিউজি এবং চীন-বাংলাদেশ রেশম গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প উদ্যোক্তা ও প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক নুসরাত জাহান নিপাও অংশ নেন।

আগে বাংলাদেশ রেশম কারখানা এবং রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন তারা।

সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম বলেন, রাজশাহীর রেশম কেবল একটি শিল্প নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য ও গর্বের অংশ। এই শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সরকার মাঠপর্যায়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রেশম খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি রেশম চাষের পদ্ধতি উন্নয়ন, তুঁত চাষের প্রসার এবং রেশম সুতার গুণগত মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

চীনের বাজারকে বাংলাদেশের রেশম শিল্পের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমাদের মানসম্মত রেশম সুতা ও কাপড় উৎপাদনের পাশাপাশি আরও আধুনিক নকশা, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন কৌশল গ্রহণ করতে হবে। এতে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সিল্ক আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সম্মেলনে জানানো হয়, রাজশাহী রেশম কারখানা ২০১৮ সালে পুনরায় চালুর পর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এই কারখানায় ৫৯ হাজার ৪৬৮ মিটার রেশম কাপড় উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে কারখানার নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্রে গরদ শাড়ি, প্রিন্টেড শাড়ি, পাঞ্জাবির কাপড় ও বলাকা সিল্কসহ বিভিন্ন রেশম পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজশাহীর রেশম শিল্পের সম্ভাবনা শুধু দেশীয় বাজারে সীমাবদ্ধ নয়। চীনের মতো বড় বাজারে প্রবেশ করতে পারলে রেশম চাষি, তাঁতি ও উদ্যোক্তারা সরাসরি লাভবান হবেন। একই সঙ্গে রপ্তানি আয়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি গুণগত মান নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।  

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক তৌফিক আল মাহমুদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শাখাওয়াত হোসেন।

আরও পড়ুন

×