রাস্তায় ফেলে যাওয়া সেই জামাল উদ্দিন মারা গেছেন
জামাল উদ্দিন
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ২২:২০
অসুস্থ প্রবাসফেরত জামাল উদ্দিনকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ১৬ দিন পর মারা গেছেন। সোমবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে জামাল উদ্দিন প্রায় ১০ বছর সৌদি আরবে ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রবাসজীবনে উপার্জিত অর্থ স্ত্রী-সন্তানদের জন্য ব্যয় করলেও দেশে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর পরিবারের কাছ থেকে অবহেলার শিকার হন তিনি। একপর্যায়ে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে গাড়িতে করে সখীপুরের পৈতৃক বাড়ির সামনে রেখে যাওয়া হয়। পরে ভাতিজিজামাই শাহ আলম তাঁকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। সেখানেই ১৬ দিন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
শাহ আলম জানান, গত ১ আগস্ট রাতে একটি গাড়িতে করে অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক বাড়ির সামনে রেখে গাড়িচালক চলে যান। পরদিন সকালে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি।
তিনি বলেন, ‘রাস্তা থেকে উদ্ধারের পর জামাল উদ্দিন আমার বাড়িতেই ছিলেন। স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতায় তাঁর কিছু চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে সেই চিকিৎসা পর্যাপ্ত ছিল না। মূলত তাঁর কিডনিজনিত জটিল রোগ ছিল। চিকিৎসার জন্য লাখ লাখ টাকা প্রয়োজন ছিল। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা কোথায় পাব?’
শাহ আলম আরও জানান, গত সোমবার দুপুরে জামাল উদ্দিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে পৈতৃক ভিটাসহ সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী রিনা আক্তারের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন জামাল উদ্দিন। এরপর প্রায় ১০ বছর সৌদি আরবে ছিলেন তিনি। প্রবাসে থাকা অবস্থায় উপার্জিত অর্থ স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে পাঠাতেন।
শাহ আলমের ভাষ্য, প্রায় চার মাস আগে দেশে ফেরার পর স্ত্রীকে নিয়ে পারিবারিক বিরোধে জড়ান জামাল উদ্দিন। একপর্যায়ে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে ছেলে আবু রায়হানের সঙ্গে গাজীপুরে বসবাস করতে থাকেন তিনি। সেখানে তাঁর কিডনিজনিত জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ে।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চিকিৎসা না করিয়ে একটি গাড়িতে করে সখীপুরের পৈতৃক বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শাহ আলম। পরে তাঁকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
জামাল উদ্দিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।