ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চেয়ারম্যানের সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীর সংঘর্ষ, আহত ১৫

চেয়ারম্যানের সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীর সংঘর্ষ, আহত ১৫
×

ছবি- সংগৃহীত

নরসিংদী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:৫৭

নাশকতা মামলায় নরসিংদীর রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলীকে গত সোমবার কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে তাঁর মুক্তির দাবি জানান সমর্থকরা। এ সময় তাদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীর সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে।

এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি মোটরসাইকেল। এ ছাড়া রায়পুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভূঁইয়ার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ রয়েছে। 

আহতরা হলেন– রায়পুরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য রাসেল ভূঁইয়া, ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম পলাশ, উপজেলা জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম, জাহাঙ্গীর মোল্লা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন, পাবেল মিয়া, আসাদুজ্জামান, মনির সরকার, আসাদ মিয়া, মিঠু খন্দকার, আমান মিয়া, শাহাদাত, নোহান আহাম্মেদ ও শাহিন। তাদের মধ্যে দুজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের সমর্থকরা মানববন্ধন করেন। এ সময় রায়পুরা উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে গেলে তাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেলে করে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের বাড়ির দিকে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রায়পুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভূঁইয়া বলেন, ‘ফারুক চেয়ারম্যানকে আদালত কারাগারে পাঠানোর পর তাঁর অনুসারীরা হাসিমপুর বাজারে মানববন্ধন করে। এ সময় আমরা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ছিলাম। পরে খবর পাই আমার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়েছে। রায়পুরা সদর থেকে দলের নেতারা আসার পর তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলীর সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের বাড়ি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি পরিদর্শন করেছে পুলিশ ও প্রশাসন। চেয়ারম্যানের বাড়ির ফটক ও ভেতরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। চেয়ারম্যানের বাড়ি অতিক্রম করার সময় লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে মোটরসাইকেলের বহরে হামলা করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রায়পুরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) টিএম ফরিদুল আলম জানান, ফারুক চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানোর পর তাঁর অনুসারীরা মানববন্ধনের চেষ্টা করে। বিষয়টি কেন্দ্র করে বিএনপির নেতারা মামুদপুর এলাকায় গেলে চেয়ারম্যানের অনুসারীরা হামলা করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার একটি মামলায় নরসিংদী আদালতে হাজিরা দিতে যান রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলী। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই তাঁর মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

আরও পড়ুন

×