ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিয়মিত হাসপাতালে আসেন না চিকিৎসক, সেবাবঞ্চিত রোগী

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নিয়মিত হাসপাতালে আসেন না চিকিৎসক, সেবাবঞ্চিত রোগী
×

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রয়োজনীয় চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশন সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সেবাটি চালুর এক মাস যেতে না যেতেই মুখ থুবড়ে পড়ায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত জুন মাসে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন চালুর ঘোষণা দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। এরপর ১৬ জুন সুস্মিতা সাহা নামে একজন গাইনি কনসালট্যান্ট ও ১৫ জুন হাবিবুর রহমান নামে একজন অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক যোগদান করেন। গত ১ জুলাই বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা চালু করা হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে স্বল্প খরচে গাইনি রোগীদের সেবা পাওয়ার আশা তৈরি হয়। তবে চালুর পর থেকেই নিয়মিত এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।

অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর থেকে নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত থাকছেন না ওই দুই চিকিৎসক। কখনও কখনও শুধু রোববার ও বুধবার হাসপাতালে এসে দায়িত্ব পালন করেন। বাকি সময় বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে সেবা দেন তারা। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রম সপ্তাহের দুই দিনেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। অন্য দিনগুলোতে জরুরি অপারেশন প্রয়োজন হলে রোগীদের অন্য হাসপাতাল বা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পুরো সুবিধা পাচ্ছেন না রোগীরা।

একজন রোগীর স্বজন সিপন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা চালুর ঘোষণা শুনে আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কিন্তু প্রয়োজনের সময় চিকিৎসক না থাকলে এই ঘোষণার সুফল সাধারণ মানুষ কীভাবে পাবে?’
ফরদাবাদ গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা তানজিনা আক্তার জানান, সিজারিয়ান অপারেশন শুরু হওয়ার খবর পেয়ে দুদিন তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান ডাক্তার দেখাতে, কিন্তু দুই দিনই সুস্মিতা সাহাকে পাননি। বাধ্য হয়ে পাশের ক্লিনিকে ডাক্তার দেখান। তিনি বলেন, ‘আমরা তেমন সচ্ছল না, সরকারি চিকিৎসা পেলে আমাদের অনেক উপকার হবে, সরকার পর্যাপ্ত ডাক্তার দেওয়ার পরও 
আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছি না, এটা আমাদের জন্য কষ্টের।’

একাধিক চিকিৎসক জানান, যোগদানের পর থেকেই ডাক্তার সুস্মিতা সাহা ও হাবিবুর রহমান নিয়মিত আসেন না। অপারেশনের নির্ধারিত দিন রোববার ও বুধবার আসেন, বাকি সময় না আসায় অনেক রোগী এসে ফেরত যাচ্ছেন।
অ্যানেসথেশিয়া কনসালট্যান্ট হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গাইনি কনসালট্যান্ট না থাকলে তো আমার গিয়ে কোনো লাভ নেই, জরুরি প্রয়োজনে সিজারিয়ান অপারেশন দরকার হলে আমাকে কল দিলে আমি ২ ঘণ্টার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে ওখানে যেতে পারব।’

গাইনি কনসালট্যান্ট সুস্মিতা সাহা বলেন, ‘রবি ও বুধবার ছাড়া আমি অন্যদিনও যাই। মাঝে মধ্যে সমস্যা হলে তখন ভিন্ন বিষয়।’ গতকাল মঙ্গলবার আপনি তো হাসপাতালে আসেননি, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি ছুটিতে আছেন বললেও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছুটিতে ছিলেন না তিনি। 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রঞ্জন বর্মণের ভাষ্য, এখানে রোববার ও বুধবার সিজারিয়ান অপারেশন হয়। নির্ধারিত দুদিন ওই দুজন চিকিৎসক অবশ্যই থাকেন। সপ্তাহে ছয় দিন উপস্থিত কেন থাকেন না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু রোস্টার করে ফেলা হয়েছে আগামী মাস থেকে আরও এক দিন বেশি থাকার ব্যবস্থা করা হবে। সুস্মিতা সাহা ও অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক হাবিবুর রহমানের উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন নোমান মিয়া বলেন, বাঞ্ছারামপুরে সিজারিয়ান অপারেশন করার জন্য একজন অ্যানেসথেশিয়া ও একজন গাইনি ডাক্তার দেওয়া হয়েছে। তাদের অনুপস্থিতির বিষয়টি তাঁর জানা নেই। অবশ্যই সপ্তাহের ছয় দিন তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে, যদি না থাকেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অফিস ফাঁকি দিয়ে কেউ অন্য কোথাও চিকিৎসা দিতে পারবেন না।

আরও পড়ুন

×