ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনাবৃষ্টিতে আমনের জমি ফেটে চৌচির, উদ্বিগ্ন চাষি

অনাবৃষ্টিতে আমনের জমি ফেটে চৌচির, উদ্বিগ্ন চাষি
×

শ্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে সেচ দিচ্ছেন কৃষক। ফুলবাড়ীর গঙ্গাপ্রসাদ এলাকা থেকে তোলা সমকাল

 ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

আষাঢ়-শ্রাবণ পেরিয়ে ভাদ্র মাস শুরু হলেও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা নেই। প্রায় এক মাস ধরে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন ক্ষেতের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কোথাও ধানের চারা হলদে হয়ে যাচ্ছে, কোথাও পানি না থাকায় চারা ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিয়ে আমন ক্ষেত রক্ষার চেষ্টা করছেন কৃষকরা। এতে বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন খরচ।

কৃষকরা বলছেন, সময়মতো বৃষ্টি না হলে আমন চাষে এবার সেচনির্ভরতা বাড়বে। ফলে বাড়তি খরচের বোঝা তাদের ঘাড়ে পড়বে। অনেকের আশঙ্কা, বাড়তি খরচের কারণে আমন চাষে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমনের চারা রোপণের কাজ প্রায় শেষ। কিন্তু পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে অনেক জমিতে পানি নেই। বিশেষ করে, উঁচু জমিগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কৃষক শ্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছেন, আবার কোথাও সেচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের বারাইপাড়া গ্রামের কৃষক মকছেদ আলী জানান, তিনি এক একর ২৫ শতক জমিতে আমন ধান লাগিয়েছেন। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে জমি ফেটে গেছে। এখন সেচ দিয়ে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন। গত ১৫ দিনে সেচ ও অন্যান্য কাজে তাঁর ১৬ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পানি না দিলে আমন ফসল টেকানো কঠিন হবে। ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় সেচেও খরচ বেশি পড়ছে। লোকসান হলেও আবাদ না করে উপায় নেই।’

ফুলবাড়ী উপজেলার কাঁটাবাড়ী কৃষক সমবায় সমিতির সভাপতি মোস্তাক আহমেদ বলেন, কৃষকের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ১৬ আগস্ট থেকে আমন মৌসুমেও গভীর নলকূপ চালু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকের ফসলহানি রোধে তারা এ ব্যবস্থা চালু করেছেন।
শিবনগর ইউনিয়নের কৃষক তওহিদ আলম বলেন, আমনের চারা রোপণের পর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে। সামনে বৃষ্টি না হলে পুরো আবাদ সেচনির্ভর হয়ে পড়বে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ী পৌরসভাসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯১ হাজার ৩১১ টন। তবে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে আমন চাষ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, ১২ জুলাই সকাল ৬টা ১ মিনিট থেকে ১৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত দিনাজপুরে ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। এরপর ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ভারী কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের দিকে একটি লঘুচাপের সম্ভাবনা রয়েছে। তখন হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর আগে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ বলেন, আমন ধানের চারা রোপণের কাজ মাত্র শেষ হয়েছে। শ্রাবণ মাসে বৃষ্টিপাত তেমন না হওয়ায় কৃষক দুশ্চিন্তায় আছেন। প্রয়োজনে গভীর নলকূপ চালু করতে বরেন্দ্র সেচ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।
ফুলবাড়ী বরেন্দ্র সেচ কমিটির সভাপতি ইউএনও আহমেদ হাছান সমকালকে বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হলে অবশ্যই পানির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে গভীর নলকূপ চালুর ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন

×