ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুলি করে গাড়ি থামিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কুপিয়ে জখম

গুলি করে গাড়ি থামিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কুপিয়ে জখম
×

শরিফুল ইসলাম শরিফ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ১১:১৬ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ১২:০৫

পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রাইভেটকারে গুলি চালিয়ে পথরোধের পর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত শরিফুলকে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও শরিফুলের দেওয়া জবানবন্দি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে শিমুলতলা বাজার থেকে নিজের প্রাইভেটকার চালিয়ে জয়নগর গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন শরিফুল। জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর গাড়ির সামনে থেকে গুলি ছোড়ে। আকস্মিক ঘটনায় গাড়িটি থামার পর দুর্বৃত্তরা শরিফুলকে গাড়ি থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

এ সময় তাঁর মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। শরিফুলের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

ঈশ্বরদী উপজেলা জিয়া সাংস্কৃতিক সংসদের (জাসাস) সাধারণ সম্পাদক এনামুল হকসহ শরিফুলের রাজনৈতিক সহকর্মীরা জানান, হামলায় শরিফুল গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ঈশ্বরদীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে। সম্প্রতি উপজেলার মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন শরিফুল। পরে তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য একজনকে সভাপতি মনোনীত করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, বিদ্যালয়ের সভাপতি পদে মনোনয়ন না পাওয়ার পর শরিফুল পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে উদ্দেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘কত টাকায় সভাপতির পদ বেচলেন’ মন্তব্য করে একটি স্ট্যাটাস দেন। এর আগে শরিফুল হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে বিরোধের পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব প্রকাশ্যে আসে।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, শরিফুল ইসলাম শরিফের ওপর হামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রাজশাহী নেওয়ার সময় শরিফুলের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

আরও পড়ুন

×