ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে আগুনে প্রাণ গেল সাতক্ষীরার দুজনের

চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে আগুনে প্রাণ গেল সাতক্ষীরার দুজনের
×

আলিমুজ্জামান সাজু ও রেবতী সরকার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:২৭ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৫৪

ভারতের নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন সাতক্ষীরার মো. আলিমুজ্জামান সাজু ও রেবতী সরকার। আলিমুজ্জামান সাজু কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মো. ইউনুস আলী সরদারের ছেলে। অন্যদিকে রেবতী সরকার তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী। পরিবার জানিয়েছে, তারা চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। 

বুধবার রাতে তাদের মৃত্যুর খবর স্বজনদের কাছে পৌঁছায়। স্বজনরা এখন অপেক্ষা করছেন মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামে আলিমুজ্জামান সাজু ও রেবতীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। বাড়ির সামনে চেয়ার পেতে বসে কাঁদছেন অনেকে। বাড়ির সামনে কাঁদছিলেন সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার ও বড় ভাবি কানিস আক্তার।

সাহেব সরদার জানান, ছোটভাই সাজু পাঁচ–ছয় দিন আগে শরীর চেকআপ করানোর জন্য ভারতে গিয়েছিল। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জানতে পারেন, ওই আগুনে সাজু মারা গেছে। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের এক আত্মীয় কলকাতায় রয়েছেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সাজুকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে। মরদেহ দেশে আনার জন্য ময়নাতদন্ত সংক্রান্ত কিছু প্রক্রিয়া আছে বলে বলা হয়েছে। এখন দূরে থেকে তো কিছু করার নেই। আমরা অপেক্ষা করছি, কখন মরদেহ বুঝে পাব।

সাজুর প্রতিবেশী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাড়ি সাজুর বাড়ির পাশাপাশি। সাজুর সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব ছিল। এমন একজন মানুষ এভাবে মারা যাবে এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। ভারতে যাওয়ার দিনও আমাদের বলে গিয়েছিল, ‘আমি একটু চেকআপের জন্য ইন্ডিয়া যাচ্ছি।’ সে যে লাশ হয়ে ফিরবে এটা ভাবিনি।

অন্যদিকে তারালী ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে রেবতী সরকারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় থমথমে এক চিত্র। ঘর তালাবদ্ধ রেখে পাশের বাড়িতে মন খারাপ করে বসে আছেন কয়েকজন স্বজন। তাদের মধ্যে একজন তপন সরকার বলেন, রেবতী তার দাদার স্ত্রী। চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ দিন আগে তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। শনিবার তার দেশে ফেরার কথা ছিল।

কিন্তু বুধবার রাতে তার দাদা ভবেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন ভারতের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তার বৌদি মারা গেছে। এরপর থেকে দাদা ভবেশ সরকারের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি।

তপন আরও বলেন, রেবতী ও ভবেশ সরকার দম্পতির দুই সন্তান। বড় ছেলে অনিক সরকার অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষে এবং মেয়ে ত্রিশা সরকার ইন্টারমিডিয়েটের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন। তারা উত্তরাখণ্ডে থাকেন।

সর্বশেষ তিনি জানতে পারেন, ভাইপো অনিক সরকার উত্তরাখণ্ড থেকে ট্রেনে করে কলকাতায় আসছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে তারা সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এমনটাই আশা করছেন তারা।

তিনি জানান, বুধবার রাত আটটার দিকে রেবতীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন তারা। 

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বলেন, খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মৃতদেহ যেহেতু ভারতে রয়েছে সেক্ষেত্রে হাইকমিশনারের মাধ্যমে দেশে আনতে হবে। নিহতের স্বজনরা মৃতদেহ ফেরানোর জন্য আবেদন করছেন ইতিমধ্যে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মৃতদেহ দেশে ফেরত আনা হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×