সিজারের সময় নবজাতকের মাথা-ঠোঁট কাটার অভিযোগ, পরে মৃত্যু
ছবি- সমকাল
যশোর অফিস
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:৫০
যশোর জেনারেল হাসপাতালে সিজার করাতে এসে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১০টার দিকে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। স্বজনদের অভিযোগ, সিজার করার সময় শিশুটির মাথা, ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে যায়। পরে চিকিৎসায় অবহেলার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটির শরীরে থাকা ক্ষত সিজারের সময় কাটার কারণে হয়নি। তাদের ধারণা, সিজারের আগেই অন্য কোনো কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
হাসপাতাল ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের রায়মানিক গ্রামের সাগর হাসানের স্ত্রী তাজমিরার প্রসববেদনা উঠলে তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে তাঁর সিজার করা হয়।
অপারেশনের পর চিকিৎসকেরা স্বজনদের জানান, তাঁদের ছেলে সন্তান হয়েছে এবং নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন। তবে স্বজনদের শিশুটিকে দেখতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। পরে প্রায় তিন ঘণ্টা পর শিশুটিকে দেখতে পেয়ে স্বজনেরা তার মাথা, ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটার দাগ দেখতে পান।
নবজাতকের খালা রহিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, পাঁচ দিন আগে শিশুটির নড়াচড়া কমে যাওয়ায় তাজমিরাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন চিকিৎসকেরা মা ও সন্তান দুজনই ভালো আছেন বলে জানিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার প্রসববেদনা উঠলে চিকিৎসকের পরামর্শে সিজার করা হয়। অপারেশনের পর দীর্ঘ সময় শিশুটিকে দেখতে দেওয়া হয়নি। পরে শিশুটিকে কোলে নেওয়ার পর তাঁরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটার দাগ দেখতে পান।
তিনি আরও বলেন, শিশুটিকে কোলে নেওয়ার পর নড়াচড়া করতে দেখে তাঁরা দ্রুত অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকেও নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির বাবা সাগর হাসান জানান, তাঁদের এটি প্রথম সন্তান। সন্তান জন্মের খবরে দুই পরিবারেই আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
তবে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আহসান কবির বাপ্পী বলেন, নবজাতকের শরীরে যে ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে, সেগুলো সিজারের সময় কেটে যাওয়ার কারণে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। সিজারের আগেই অন্য কোনো কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, স্বজনদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্ট কারও অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।