শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু
সেই জাহাজের আরও ৩ ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাস, মিলেছে কালো স্লাজ
ছবি- ভিডিও থেকে নেওয়া
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:২০
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ৯ শ্রমিকের প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই স্ক্র্যাপ জাহাজের আরও তিনটি ব্যালাস্ট ট্যাংকে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ট্যাংকগুলোতে মিলেছে ঘন কালো স্লাজ বা তলানি। মঙ্গলবার তদন্ত দল ও বিশেষজ্ঞ কমিটির যৌথ পরিদর্শনে এসব তথ্য উঠে আসে।
দুর্ঘটনাকবলিত ‘এমটি রাসি’ জাহাজে মোট আটটি ব্যালাস্ট ট্যাংকের ওপরের ও নিচের স্তরের পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি ট্যাংকে ঘন কালো স্লাজ পাওয়া যায়। পানি নাড়াচাড়া করে নমুনা সংগ্রহের সময় এসব ট্যাংকের ভেতরে ৮ থেকে ১৮ পিপিএম হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়। তবে জাহাজের খোলা জায়গায় এ সময় কোনো হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি, বিশেষজ্ঞ দল, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি পরিদর্শন করেন। প্রশিক্ষিত কর্মীরা নিরাপত্তা পোশাক পরে দুর্ঘটনাস্থলের ট্যাংকের কাছে গিয়ে গ্যাসের নমুনা পরীক্ষা করেন। সেখানে হাইড্রোজেন সালফাইড শূন্য এবং অক্সিজেনের মাত্রা ২০ দশমিক ৯ শতাংশ পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার চার দিন পেরিয়ে যাওয়ায় গ্যাস জোয়ারের পানিতে দ্রবীভূত হয়ে কিংবা বাতাসের সঙ্গে মিশে সরে যেতে পারে। ফলে অক্ষত ট্যাংকগুলোতে বর্তমানে গ্যাস আছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাইড্রোজেন সালফাইড পানির সঙ্গে মিশ্রিত অবস্থায় রয়েছে। পানি স্থির থাকলে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম থাকলেও পানি ও স্লাজ অপসারণের সময় তা আবার বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে অক্ষত ট্যাংক কাটার আগে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
পরিদর্শনের সময় জাহাজের বায়ু, পানি ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার পর স্লাজের প্রকৃতি ও পানিতে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিকের মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, ‘জাহাজের খোলা জায়গায় বর্তমানে কোনো গ্যাস নেই। তবে নমুনা সংগ্রহের সময় তিনটি ট্যাংকে হাইড্রোজেন সালফাইড পাওয়া গেছে। পানিতে স্লাজ বা তলানিও দেখা গেছে।’
বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) তদন্ত দলের প্রধান ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী বলেন, ল্যাব রিপোর্ট পাওয়ার পর ‘প্রান্তিক মেরিন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ট্যাংকগুলো থেকে পানি ও স্লাজ অপসারণ এবং জাহাজটিকে গ্যাসমুক্ত করার পরিকল্পনা জমা দেবে। বিশেষজ্ঞ কমিটি ওই পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
গত শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ৩০ হাজার ৭৭০ টন ওজনের ‘এমটি রাসি’ জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংক কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিক মারা যান। এ ঘটনায় আহত হন আরও অন্তত ছয়জন।
- বিষয় :
- শিপইয়ার্ড
- বিষক্রিয়া
- শ্রমিকের মৃত্যু